সুজানগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিস্তীর্ণ গাজনার বিলে বর্তমানে নৌকা ভ্রমণ ও বনভোজনের নামে চলছে অশ্লীলতা ও অসামাজিক কার্যকলাপ। এতে ক্ষুব্ধ বিলপাড়সহ বিলে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষেরা। শুক্রবার বিকালে গাজনার বিলের খয়রান ব্রিজ এলাকায় গিয়ে দেখা যায় বেশিরভাগ ভ্রমণ ও বনভোজনের নৌকার সামনে অশ্লীল পোষাকে নাচছে নর্তকীসহ কয়েকজন হিজরা। আর এদের সাথে নৌকায় নেশা জাতীয় দ্রব্য পান করে ড্যান্স দিচ্ছে তরুণ যুবকেরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব নর্তকী ও হিজরাদের অন্য জায়গা থেকে টাকা দিয়ে এনে অবৈধ এ কর্মকাণ্ড চালায় ভ্রমণে ও পিকনিকে আসা যুবকেরা। আর দিনে নাচের মাধ্যমে আনন্দ দিলেও রাতে ঘটছে অসামাজিক কার্যকলাপ। এদিকে নর্তকী ও হিজরা থাকা নৌকাগুলোর বেশিরভাগ অংশই ছাউনি দেওয়া।
বিলের খয়রান ব্রিজ এলাকায় পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা শিক্ষক আনিছুর রহমান বলেন ঐতিহ্যবাহী এই গাজনার বিলের অপরুপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে খয়রান ব্রীজ এলাকায় এই সময়ে প্রায় প্রতিদিন সাঁথিয়া, বেড়া, পাবনা শহরসহ অন্য জেলা থেকেও শত শত মানুষ আসে।
কিন্তু নৌকায় আনন্দ ভ্রমণ ও পিকনিকের নামে চলা অশ্লীল কর্মকাণ্ডে সাধারণত পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষদের বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। গাজনার বিলে বেড়াতে আসা সরকারি কর্মকর্তা উপজেলা পোষ্ট মাষ্টার আফজাল হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য রাজু আহমেদ ও ফজলুল হক বলেন, গাজনার বিলে নৌকা ভ্রমণ ও বনভোজনের নামে চলা অশ্লীলতায় ডুবছে যুব সমাজ। ফলে অভিভাবকেরা উঠতি বয়সের সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও ক্রমবর্ধমান নৈতিক অবক্ষয় নিয়ে চরম উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় রয়েছেন।
তারা যুব সমাজকে রক্ষায় বিলে চলাচলকারী নৌকা বাশের ছঁই তোলা ও সামিয়ানা টাঙানো শ্যালোইঞ্জিন চালিত ভাসমান বনভোজনের এসব নৌকাতে গান বাজনা নাচা নাচি ও বিনোদনের অন্তরালে চলমান অশ্লীল কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে সুজানগর থানা অফিসার ইনচার্জ বদরুদ্দোজা জানান, বিষয়টি সম্পর্কে থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। তবে এ ধরণের অশ্লীল কর্মকাণ্ড চলে থাকলে তা বন্ধে পুলিশ অতি দ্রুতই অভিযান পরিচালনা করবে।
