উদ্বোধনের একদিন পর রবিবার সকাল ৬টা থেকে সব ধরনের যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে পদ্মা সেতু। সেতু খুলে দেওয়ার পর সেতুর দুই প্রান্তে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ যানজটে কিছুটা ভোগান্তি হলেও পদ্মা পাড়ি দিতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেকে
রবিবার (২৬ জুন) সকাল ৮টায় মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।
ভোর থেকেই মাওয়া প্রান্তে সেতু পারাপারের জন্য অপেক্ষায় আছেন অসংখ্য মানুষ। টোল দিয়ে সেতু পার হচ্ছেন তারা। বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়িসহ সব ধরনের যানবাহনই সেতুতে বেশি দেখা গেছে।
টোল প্লাজা এলাকা থেকে মীর নাসিরুদ্দিন উজ্জ্বল নামের একজন বিবিসিকে জানান, প্রতিটি গাড়ির টোল আদায় করতে সময় লাগছে দুই থেকে তিন মিনিট। মোট ছয়টা বুথ থেকে টোল আদায় করা হলেও, যানবাহনের চাপ অত্যধিক হওয়ায় এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে তিনি বলেন, “প্রথমবারের মত পদ্মা সেতু পার হওয়া নিয়ে মানুষের উচ্ছ্বাস এত বেশি যে যানজট নিয়ে খুব বেশি অভিযোগ চোখে পড়েনি। যানজট থাকলেও তা নিয়ে মানুষের মধ্যে কোনো আক্ষেপ চোখে পড়ছে না।”
শরীয়তপুরের এক দম্পতির সঙ্গে কথা হয় বিবিসির। তারা বিবিসিকে জানান, যানজট দেখে তারা সেতু অভিমুখে হাঁটা শুরু করেছেন। তারা মূলত প্রথম দিন সেতু পার হওয়ার জন্যই এসেছেন।
তারা বলেন, “এখান থেকে সারাজীবন ফেরিতে করে পদ্মা পার হয়েছি। সেতু যখন তৈরি হচ্ছিল তখনও বিশ্বাস হয়নি, কোনোদিন এই সেতু পার হতে পারবো। তাই নিজের অবিশ্বাস দূর করার জন্য আজ এসেছি।”
এর আগে, পদ্মা সেতু নিয়ে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ থাকায় রবিবার ভিড় হবে বলে ধারণা করছিলেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক শফিকুল বলেছিলেন, “শুরুর দিন যানবাহন ব্যাপক চাপ হবে বলে আমরা ধারণা করছি। আমাদের টোলপ্লাজার কর্মীদেরও সেভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, তারা ভিড় সামলাতে পারবে। এছাড়া সেতু রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার জন্যও সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া আছে।”
শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু উদ্বোধন করে টোল দিয়ে প্রথম পদ্মা সেতু পার হন। সেতুতে টোলের হার ইতোমধ্যে নির্ধারিত হয়েছে।
ছোট বাসে ১৪০০ টাকা, মাঝারি বাসে ২০০০ টাকা এবং বড় বাসে ২৪০০ টাকা টোল দিতে হবে। ছোট ট্রাকের টোল ১৬০০ টাকা, মাঝারি ট্রাকে ২১০০-২৮০০ টাকা, বড় ট্রাকে ৫৫০০ টাকা। পিকআপের টোল ১২০০ টাকা। কার ও জিপের টোল ধরা হয়েছে ৭৫০ টাকা, মাইক্রোবাসে ১৩০০ টাকা। মোটরসাইকেল নিয়ে পদ্মা সেতু পার হতে চাইলে টোল দিতে হবে ১০০ টাকা।
পদ্মা সেতু থেকে বছরে ১,৬০০ কোটি টাকা টোল আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, সেতুটি জিডিপিতে ৪২ হাজার ৩৬২.২১ কোটি টাকা যোগ করবে; যা মোট জিডিপির ১.২%-এর সমান
পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে প্রতি মাসে ১৩৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা টোল আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে
রাজধানী ঢাকার সঙ্গে মোংলা ও পায়রা বন্দরের যোগাযোগ সহজতর করার সঙ্গে সঙ্গে পদ্মা সেতু দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ১.২% প্রবৃদ্ধি আনবে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, সেতুটি জিডিপিতে ৪২ হাজার ৩৬২.২১ কোটি টাকা যোগ করবে; যা মোট জিডিপির ১.২%-এর সমান।
সরকারের সেতু বিভাগ অর্থ বিভাগ থেকে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা ১% সুদসহ ৩৬ বছরের মধ্যে পরিশোধ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পদ্মা সেতু দিয়ে যাতায়াতকারী যানবাহন থেকে এই টোল আদায় করা হবে।
পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে প্রতি মাসে ১৩৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা টোল আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ। সেই টাকা ১৪০ কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে। এ জন্য সরকার বছরে এক হাজার ৬০৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা টোল আদায় করতে চায়।
সরকার ইতোমধ্যে যানবাহনের টোল হার নির্ধারণ করেছে। দেশের সবচেয়ে বড় এই সেতুতে দুই ধরনের টোল আদায় হবে। এর মধ্যে একটি হল সরাসরি টোল পরিশোধ করা যায়। চালকরা অগ্রিম রিচার্জ করে কার্ড দেখিয়ে টোল পরিশোধ করতে পারবেন। এর জন্য টোল প্লাজায় যানবাহন থামাতে হবে না।
পদ্মা সেতু প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, “দেশের সর্ববৃহৎ প্রকল্প পদ্মা সেতু দেশের জনগণের টাকায় নির্মিত হয়েছে। উদ্বোধনের পর সেতুটির টোল আদায় করবে কোরিয়া কোম্পানি।
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।