রাজধানীতে বেড়েই চলেছে চলন্ত বাসে ছিনতাই। দিনে কিংবা রাতে, পথচারী ও বাসযাত্রীদের আতঙ্ক এই ছিনতাইকারীরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেশার টাকা জোগাড় করতেই এ পথ বেছে নিচ্ছে রাস্তার পাশে বেড়ে উঠা কিশোররা। অপরাধ দমনে সড়কবাতি স্থাপনের পরামর্শ নগর পরিকল্পনাবিদদে
সরেজমিনে দেখা যায়, যানজটে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়া বাসকে অনুসরণ করছে দু’জন। বাসটি থামতেই জানালা দিয়ে বাসে উঠার চেষ্টা করছে তারা। মুহূর্তের মাধ্যেই বাসের যাত্রীর মোবাইল ছোঁ দিয়ে নিয়ে লাপাত্তা দু’জনই। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নিত্যদিনের চিত্র এটি। সামান্য অসাবধানতাতেই ছিনতাইকারীর খপ্পরে চলে যায় যাত্রীদের মোবাইল, গহনাসহ নানা মূল্যবান সম্পদ।
যাত্রীরা জানান, হঠাৎ ফোন আসলো। কথা বলছেন, এরইমধ্যে ছিনতাইকারী আপনার ফোনটি নিয়ে চম্পট। এখানে আপনার কিছুই করার নেই।
সমস্যা দীর্ঘদিনের। পুলিশি অভিযানও চলছে দফায় দফায়। তবুও কেন কমছে না এ ধরনের অপরাধ?
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনসের উপকমিশনার মো. ফারুক হোসেন বলেন, ভাসমান মাদকসেবীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায়, ছিনতাইও বেড়ে গেছে।
বিশ্বায়নের যে সময়টাতে শিশুদের এগিয়ে নিতে নেয়া হচ্ছে নানা পদক্ষেপ, তখনই কিশোরদের একটি বড় অংশ ঝুঁকছে এ ধরনের অপরাধে। বিশেষজ্ঞদের মত, পথশিশুদের অনেকেই কৈশোরে পা দিতে দিতে হয়ে উঠে মাদকসেবী। আর এই মাদকের টাকা জোগাড়ে ছিনতাইই হয়ে উঠে একমাত্র উপায়।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, চুরি ও ডাকাতি যারা করে, থানায় তাদের একটা তালিকা রয়েছে। এই তালিকা ধরে ব্যবস্থা নেয়া হলে ছিনতাইয়ের সংখ্যাটা কমে আসবে।
এদিকে, অপরাধ কার্যক্রম ঠেকাতে ঢালাওভাবে নগরীকে সাজানোর পরামর্শ নগরবিদদের। পুলিশি টহল বাড়ানোসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পর্যাপ্ত সড়কবাতি স্থাপনের পরামর্শও দিলেন নগর পরিকল্পনাবিদ আকতার হোসেন।
পুলিশ আরও বেশি তৎপর হলে এ ধরনের অপরাধ ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে মনে করছেন নগরবাসী।
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।