বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২৬
Homeবিবিধভূঞাপুরে অবৈধ মাটি কাটায় জরিমানা, প্রতিবাদে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা

ভূঞাপুরে অবৈধ মাটি কাটায় জরিমানা, প্রতিবাদে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা

নিজস্ব প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে অনুমতি ছাড়াই পুকুর খননের আড়ালে রাতভর মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা সেলিম কমিশনার ও তার সহযোগীরা এ মাটি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সেলিম কমিশনার বলেন, ‘সবকিছুতেই নাক গলাতে হয় না।’

মঙ্গলবার (২৩ জুন) গভীর রাতে উপজেলার পৌর এলাকার ছাব্বিশা গ্রামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বাবু (৩১) নামে এক এক্সকাভেটর চালককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে একটি এক্সকাভেটরের দুটি ব্যাটারি জব্দ করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ছাব্বিশা গ্রামের বাছেদ ও রশিদের দুটি পুকুর সংস্কারের নামে সেখানকার মাটি কিনে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছিল। এ কাজে ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নূরে আলম ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা সেলিম কমিশনার জড়িত রয়েছেন। গত এক সপ্তাহ ধরে রাত হলেই একটি পুকুরে সেলিম কমিশনারের ভাইয়ের এক্সকাভেটর এবং অন্যটিতে ভাড়া করা এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে ট্রাকযোগে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছিল।

এলাকাবাসী জানান, শত শত ট্রাক মাটি বহনের কারণে এলজিইডির গ্রামীণ সড়কগুলো ভেঙে যাচ্ছে। অনেক স্থানে রাস্তার পিচ উঠে গেছে, কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বর্ষা মৌসুমে এসব সড়কে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি ধুলাবালির কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাব্বিশা গ্রামের এক যুবক বলেন, ‘সেলিম কমিশনার এতটাই প্রভাবশালী যে তার বিরুদ্ধেকেউ মুখ খুলতে চায় না। ইউএনও মাটি কাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু কয়েকদিন পর আবারও শুরু হয়েছে। রাতভর ট্রাক চলাচলে রাস্তাঘাট নষ্ট হচ্ছে, অথচ কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সেলিম কমিশনার মুঠোফোনে বলেন, ‘তদন্ত করে দেখেন। আমার নাম আসলে আমি কী করতে পারি? নিজের পুকুরও কি সংস্কার করতে পারবে না? আমি মাটি কিনতেই পারি। মাটি কি অবৈধ জিনিস?’

ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সবকিছুতেই নাক গলাতে হয় না। ১৭ বছর কোথায় ছিলেন? সারা বাংলাদেশেই ভাটায় মাটির প্রয়োজন। আমার মাটি আমি বিক্রি করতে পারব না? এটার জন্য আবার জবাবদিহি করতে হবে?’

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নূরে আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব হাসান বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি স্থানে এক্সকাভেটর পাওয়া যায়। পরে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী এক্সকাভেটর চালককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অন্য একটি স্থানে থাকা এক্সকাভেটর দুটি ব্যাটারি জব্দ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে এলাকার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অননুমোদিতভাবে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে বিক্রির সুযোগ নেই। জনস্বার্থে উপজেলা প্রশাসনের আইনানুগ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম রেজাউল করিম বলেন, ‘অবৈধভাবে কেউ কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও করা হবে।’

উল্লেখ্য, এর আগে ভূঞাপুরের লিচুর বাজারে অতিরিক্ত মূল্য আদায় ও কথিত সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগেও আলোচনায় আসেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা সেলিম কমিশনার। গত ৩০ মে এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন ফলপট্টিতে অভিযান চালায় এবং পরবর্তীতে বাজারে লিচুর দাম কমে আসে বলে জানান ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular