রফিকুল ইসলাম রবি, ভূঞাপুর: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীর পূর্ব তীর রক্ষা বাঁধের কাছ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে লাঠি ও ঝাঁড়ু হাতে নিয়ে মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের বলরামপুর এলাকার যমুনা নদীর পূর্ব তীরে মানববন্ধন করা হয়। পরে সেখান থেকে বিক্ষোভ করে বালু উত্তোলন বন্ধে কয়েক হাজার ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ তারাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে সমবেত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, ফলদা ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম তালুকদার দুদুু ও সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ইকো মিয়ার নেতৃত্বে এলাকার কিছু প্রভাবশালী নেতাদের যোগসাজশে সরকারি বালু মহলের নাম করে দীর্ঘদিন যাবৎ ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে নলিন থেকে রায়ের বাশালিয়া গ্রাম রক্ষা বাঁধ ও তার অদূরে ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। অবৈধ বালু উত্তোলন কাজে কেউ বাঁধা দিলে তাদের নানাভাবে হয়রানিসহ হুমকিও দেয়া হয়।
বক্তারা আরও বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তীর রক্ষা বাঁধের নিকট বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে আগামী বন্যা মৌসুমে হুমকির মুখে পড়বে ৪টি গ্রামের ২টি উচ্চ বিদ্যালয়, ৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫টি মসজিদ, ৩টি কবরস্থান, ১টি মাদরাসা, ১টি মন্দির এবং ১টি গুচ্ছ গ্রাম। প্রশাসনকে বার বার বললেও তারা কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা শরিফ উল্লাহ শরিফের নেতৃত্বে অংশ নেন, স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ফজলুর রহমান, হায়দার আলী, তোজাম্মেল হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক ও রাজু মিয়া প্রমুখ। এছাড়াও কয়েক গ্রামের হাজার হাজার ক্ষতিগ্রস্থ লোকজনসহ স্কুল-মাদরাসা রক্ষায় শিক্ষার্থীরাও মানববন্ধনে অংশ নেন।
ফলদা ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম তালুকদার দুদু বলেন, ইজারাকৃত বালু মহল থেকে আমরা বালু উত্তোলন করেছি এবং পানি শুকিয়ে যাওয়ায় ড্রেজারগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একটি মহল ষড়যন্ত্র করছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা: ইশরাত জাহান বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে সব সময় নজরদারি রয়েছে। ফসলি জমি কেটে বালু বিক্রির বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর ঠিকাদাররা নির্ধারিত পয়েন্ট ছাড়া যদি অন্য কোন স্থান থেকে বালু উত্তোলন করে তাদের ইজারা শর্ত ভঙ্গ হবে বলেও জানান তিনি।
