শুক্রবার, মে ২৯, ২০২৬
Homeদেশের খবরময়মনসিংহে জীবন সংগ্রামে সাফল্য পেতে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন গীতা রানী

ময়মনসিংহে জীবন সংগ্রামে সাফল্য পেতে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন গীতা রানী

কাগজের ঠোঙায় স্বপ্ন দেখছেন ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার পয়ারী ইউনিয়নের কাড়াহা গ্রামের সুনীল চন্দ্র সরকারের স্ত্রী গৃহবধূ গীতা রানী। জীবন সংগ্রামে সাফল্য পেতে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন গীতা রানী।

গীতা রানী ‘একটি বাড়ি একটি খামারের’ কাড়াহা গ্রাম উন্নয়ন সমিতি থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে এর সঙ্গে কিছু নিজের টাকা যোগ করে প্রথমে একটি গরু কিনেন। পরে গরুটি বাচ্চা দেওয়ার পর সেটি ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে গরুর বাছুরটি লালন-পালন করছেন। বর্তমানে বাছুরটির দাম হবে আনুমানিক ৪৫ হাজার টাকার মতো।

গীতা রানী বলেন, দ্বিতীয় ধাপে পনের হাজার টাকা ঋণ নিয়ে কাগজের ঠোঙা তৈরির কাজ শুরু করি। কাগজের ঠোঙা বানিয়ে বিক্রি করে প্রতিদিন ৫শ টাকা থেকে ৮শ টাকার মতো আয় হয়। কাগজের ঠোঙা বানানোর কাজটি প্রতিদিন করতে পারলে গড়ে প্রায় ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা মাসে আয় থাকে। ঠোঙার ব্যবসা বাড়ানোর জন্যে ২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নেই।

এ সময় তিনি আরও বলেন, একসময় অনেক কষ্টে দিন পার করতে হয়েছে। আবাদি জমি না থাকায় একসময় অসুস্থ স্বামী আর বেকার ছেলে নিয়ে অথৈ সাগরে ভেসে যাচ্ছিলাম প্রায়। সামান্য ভিটে-মাটির ওপর ছোট একটি ঘরই আমার সম্বল। পরে কোনো কূল কিনারা না পেয়ে আস্তে আস্তে নিজের শ্রমে আর কষ্টে সামান্য আলোর মুখ দেখে নিজের সংসার খরচ মেটাচ্ছি। বর্তমানে মেয়েকে ময়মনসিংহ নগরীর মেসে রেখে নিত্য খরচ চালিয়ে কলেজে অনার্সে পড়াচ্ছি। ঠোঙার ব্যবসা আরও বাড়াতে পারলে ওই ব্যবসার আয়ে আগের চেয়ে ভালোভাবে চলতে পারব বলে আশা করি। ঠোঙা বিক্রির আয়ে সংসার খরচ বাদে সন্তানের লেখাপড়াতেই চলে যায়। তবে নতুন করে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ঠোঙার ব্যবসা বাড়ানোর কাজটিতেও এবার সফল হব বলে আশা করি।

বর্তমানে গীতা রানী আর্থিকভাবে অনেকটাই দাঁড়িয়ে গেছেন। অভাব-অনটনকে পেছনে ফেলে মেধা ও শ্রমে দুপয়সা আয়ের মাধ্যমে তার ছোট ঘর-সংসার সাজাতেও শুরু করেছেন। সর্বক্ষেত্রেই তা সাহসী পদচারণা সংসার পরিচালনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক এবং একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের ফুলপুর উপজেলা সমন্বয়কারী আবুল বাশার বলেন, ‘পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের প্রকল্প থেকে ঋণ নিয়ে অনেকে উপকৃত ও সফল হয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প হচ্ছে, ‘আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প’। এ প্রকল্প থেকে যত সহজে ঋণ নেওয়া যায় তা অন্য কোনো সংস্থা থেকে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।’

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular