সখীপুরে কাঙ্গালিছেওসহ বহু জরাজীর্ণ কক্ষে চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান ! কাঙ্খিত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে

শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি উন্নতি করতে পারে না, পারেনি।  এ কথা আমরা জানি। আর এ মেরুদণ্ড যে কারখানায় তৈরি হয় তার নাম প্রাথমিক বিদ্যালয়। একটি শিশু ভবিষ্যতে কতটুকু ন্যায়-নীতিবান, আদর্শবান, চরিত্রবান হবে কিংবা দেশ, জাতি, সমাজের প্রতি কতটুকু দায়িত্বশীল হবে এটি অনেকাংশেই নির্ভর করে তার প্রাথমিক জীবনের শিক্ষার ওপর। প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব তাই অপরিসীম।
প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে কী করা উচিত, এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র, সমাজ এবং শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত এসব বিষয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকলেও গৃহীত হচ্ছে নানা পদক্ষেপ। বার্ষিক বাজেটে শিক্ষা খাতে প্রতি বছরই বাড়ছে বরাদ্দ। অথচ আদর্শবান জাতি গঠনের লক্ষ্যে সুস্থ মেধা বিকাশ উপযোগী যে ধরনের বিদ্যালয় বা শ্রেণিকক্ষ দরকার তা বেশির ভাগ বিদ্যালয়েই অনুপস্থিত। এখনও দেশের অসংখ্য বিদ্যালয়ে বসার বেঞ্চ নেই, টয়লেট নেই, খেলার সামগ্রী নেই, যা প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে অন্যতম শর্ত।
সরেজমিনে টাঙ্গাইলের সখীপুরে যাদবুপর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাঙ্গালিছেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা মিলে  জরাজীর্ণ  ভবনের একটি কক্ষে চলছে  স্কুলের কার্যক্রম। ভবনের দেয়ালে অসংখ্য ফাটল ছাদ থেকে খয়ে পড়ছে পলেস্তারা।  কক্ষের মধ্যে দুই পাশে তিনটি করে বেঞ্চ বসানো। একসঙ্গে বসে ক্লাস করে দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক -শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলা উপজেলা অন্য ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ স্বরুপ স্কুলটির নাম কাঙ্গালিওছেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্কুলটিতে নেই কোনো খেলার মাঠ, পাঠাগার ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা। একটি টয়লেট থাকলেও তাতে পানি নেই। শিক্ষকদের জন্য আলাদা কোনো রুম নেই। এমনকি অফিসের কাজও চলে শ্রেণিকক্ষের এক কোণে। তাই ঝড়-বৃষ্টি বা ভূমিকম্পে যেকোনো সময় ভবন ধসে পড়ার আতঙ্কে ভোগেন বলে জানান শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
     তারা জানান, পাঠদানের ন্যূনতম পরিবেশ না থাকায় ও ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দিন দিন কমছে। বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকের কাছে অভিযোগ জানিয়েও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না বলে জানান শিক্ষকরা। তারা বলছেন, বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের ওই পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে বসেই পরীক্ষা ও ক্লাস করাতে হয়।
স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদ্যালয়টি  নির্মাণ করার পর আর কোনো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্কুলটিতে প্লে গ্রুপ থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়।
স্থাপত্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ, মনোবিদগণ বিদ্যালয় অবকাঠামোর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে, স্থাপত্যরীতির সঙ্গে শিশুর মনস্তাত্ত্বিক বিকাশের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। গবেষকরা মনে করেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় অবকাঠামো পরিকল্পনায় আলো, শব্দ, তাপমাত্রা ও বায়ু চলাচল এই চারটি বিষয় বিবেচনা সবচেয়ে গুরুত্বের দাবি রাখে। শিক্ষা পরিকল্পনাবিদরা, বিশেষত বিদ্যালয় অবকাঠামো পরিকল্পনার সঙ্গে যারা যুক্ত, তারা এ ব্যাপারে সচেতন হলেই সম্ভব আকাঙ্খিত মানসম্মত শিক্ষা। সবচেয়ে বড় কথা, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কখনো একটি স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম চলতে পারে না। কোমলমতি শিশুরা বিদ্যালয়ে এসে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি তাদের জীবনেরও নিরাপত্তা থাকবে, এটিই সকলের প্রত্যাশা।
এই ধরনের আরও খবর

সর্বশেষ খবর