এম সাইফুল ইসলাম শাফলু : টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার-দাড়িয়াপুর খোলাঘাঁটা- বেতুয়া চার কিলোমিটার কাঁচা সড়কে চলতি বর্ষায় সৃষ্ট বড় বড় গর্তে পানি আর কাদা জমে চলাচলে একেবারই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এ সড়কে চলাচলকারী স্কুল, কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চাকরীজীবিসহ সর্বসাধারণ । দেশ স্বাধীনের পর থেকে সড়কটি পাকাকরণের জনপ্রতিনিধিরা বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করেননি। এতে করে যুগের পর যুগ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। প্রতিশ্রতি ভঙ্ককারী জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সরেজমিন শনিবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের খোলাঘাঁটা বাজার থেকে বহেড়াতৈল ইউনিয়নের বেতুয়া স্থলচালা পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার কাঁচা সড়কটিতে চলতি বর্ষায় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আর ওই গর্তে বৃষ্টির পানি আর কাদা জমে ওই সড়কে চলাচলকারীর সাইকেল, মোটরসাইল ভ্যান তো দূরের কথা খালি পায়ে হেটে যাওয়াই অযোগ্য হয়ে পড়েছে।এ এলাকার কৃষকের উৎপাদিত পণ্য আনা নেয়ায় সম্ভব হচ্ছে না। ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। বিকল্প কোন সড়ক না থাকায় ওই সড়ক দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে দাড়িয়াপুর এস এ উচ্চ বিদ্যালয়, দাড়িয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেতুয়া উচ্চ বিদ্যালয়, খোলাঘাটা কিন্ডারগার্টেন , করটিয়া সাদত বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি মুজিব কলেজ, সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ওই অঞ্চলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চাকুরী জীবিদের চলাচল করতে হচ্ছে ।
খোলাঘাটা বাজারের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম, বিপ্লব হাসান, রিপন সিকদার বলেন, রাস্তায় চলতি বর্ষায় সৃষ্ট গর্তে পানি আর কাদা জমে চলাচলে একেবারই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ছেলে-মেয়েদেরকে স্কুল কলেজে পাঠাতে চাইলে তারা যেতে চায় না। কাদাযুক্ত রাস্তায় গরু আর ঘোড়ার গাড়ী ছাড়া অন্য কোন যানবাহন না চলায় গর্ভবতী মহিলা ও অসুস্থ্ বৃদ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে মহা বিপদে পড়তে হয়।
কলেজ শিক্ষার্থী সুমন ও শাহানাজ আক্তার জানায়, সড়কটি দিয়ে কোন প্রকার যানবাহন দূরের কথা পায়ে হেটে যাওয়ায় দুষ্কর। প্রতিদিনই জুতা হাতে নিয়ে প্যান্ট ও স্যালোয়ার কুচিয়ে ঝুকিপূর্ণভাবে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নওজেস আলী এবং বিএনপি নেতা কবির হাসান বলেন, চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়াে এ সড়কটি দিয়ে গত কয়েকমাস ধরে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য আনা নেয়া বন্ধ রয়েছে। চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এ এলাকার গর্ভবতী মা, মুমূর্ষূ রোগী, স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থী, চাকুরিজীবিরা। তারা একই সূরে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধিদের সড়কটি পাকাকরণে দ্রুত প্রদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান।
৭নং দাড়িয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনসার আলী আসিফ সড়কটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ স্বীকার করে বলেন, অচিরেই সড়কটি পাকাকরণের ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবগত করানো হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রৌকশলী হাসান ইবনে মিজান বলেন, অচিরেই এ সড়কটিসহ উপজেলা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পাকা করণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উর্দ্বতন কর্তৃক্ষের কাছে আবেদন করা হবে।
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।