‘গুডবাই গুডবাই লাস্ট ইয়ার/ ঘড়ির কাঁটা বলছে টিকটিক সময় নাই যে আর/ রাত বারোটা বেজে গেল এলো নিউ ইয়ার/ হ্যাপি নিউ ইয়ার।’ পুরাতনকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে আহ্বান করে এভাবেই গানের মাধ্যমে নানা আয়োজনে বর্ষবরণের প্রত্যয় ব্যক্ত করছে বাংলার মানুষ। ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিন আজ। শীতের কুয়াশামাখা ভোরে পূর্বাকাশে ডিমের কুসুমের মতো গোলাকার সূর্যটা উদিত হয়ে প্রিয়ার কপালে লালটিপের মতো দ্যুতি ছড়াচ্ছে আপন রূপে। নতুন বছরের আগমন আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে সময় এবং স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। মনে করিয়ে দিচ্ছে সময় জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক।
প্রতিটি মুহূর্ত ঘড়ির কাটার সেকেন্ডের মত টিকটিক করে স্মরণ করিয়ে দেয় সময়ের শেষ মুহূর্তের কথা। অতীত বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। এগুলোর বাইরে যেতে পারি না। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা এদের কোনো স্থিতি নেই। এই মুহূর্তে যেটা বর্তমান কিছুক্ষণ পরেই তা ধূসর বিবর্ণ অতীত। ক্ষণে ক্ষণে ভবিষ্যৎ ঠাঁই নিচ্ছে বর্তমানের। আবার মুহূর্তের মধ্যেই বর্তমান হারিয়ে যাচ্ছে অতীতের মাঝে। এটাই বুঝি প্রকৃতির নিয়ম। যে বছরকে নিয়ে এতটা খুশি, এতটা উচ্ছ্বসিত।
সময়ের পরিবর্তনে একদিন আজকের বছরটাকেও বিদায় জানাতে হবে। এরই ধারাবাহিকতায় মহাকালের গর্ভে হারিয়ে গেল আরেকটি বছর। স্থান পেল ঘরের দেওয়ালে নতুন বছরের নতুন ক্যালেন্ডার। সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাব পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার দিন শুরু হলো। পুরনো বছরের সংশয়, সঙ্কট, কাটিয়ে উঠে নতুন ভাবনা, নতুন আশা, নতুন করে দিন যাপনের দিন শুরু হলো। উল্লেখ্য পুরো বছরটাই কেটে গেল করোনার ভয়াবহ সংক্রমনের মধ্য দিয়ে। তবে সবচেয়ে আনন্দের বার্তা হলো আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বছরে পদার্পন করলাম। মনে রাখতে হবে যেকোনো অর্জনে বাধা বিপত্তি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসবেই। এগুলো মোকাবেলা করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। গড়ে তুলতে হবে করোনামুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের — আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে / তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে।’ গানের কথা গুলোর মতো দুঃখ-কষ্ট জীর্ণতা কাটিয়ে নতুন বছর সবার জীবনে শুভ হয়ে দেখা দিবে এমনটাই প্রত্যাশা।
এ বি সিদ্দিক
প্রভাষক (মার্কেটিং)
বল্লা করোনেশন কলেজ
বল্লা বাজার, টাঙ্গাইল।
