নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রায় বছর পেড়িয়ে গেলো করোনা ভাইরাসের কারণে সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এতে করে চরম বিপাকে পড়েছেন টাঙ্গাইলের সখীপুরের কিন্ডারগার্টেন মালিক, শিক্ষক ও কর্মচারীরা । প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তাদের বেতনও দিতে পারছেনা মালিকপক্ষ। এতে করে ওইসব শিক্ষক ও কর্মচারীরা লাজ লজ্জায় কারো কাছে ত্রানের জন্য হাত বাড়িয়ে নিতেও পারছেন না। ফলে তারা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
জানা গেছে, সখীপুরে প্রায় ছোটবড় দেড় শতাধিক কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন প্রায় সহস্রাধিক শিক্ষক-কর্মচারী। তাদের বেতন হয় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া টিউশন ফি থেকে। গত বছরের মার্চে করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয় এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে করে কোন কিন্ডারগার্টেন কর্তৃপক্ষই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি তুলতে পারেনি। কাজেই গত ১বছর ২ মাস ধরে বেতন পাননি শিক্ষক কর্মচারীরা। ইতিমধ্যেই প্রায় ৩০টির মতো কিন্ডারগার্টেন স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে আরো বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পথে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক জানান, কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষকরা নামেমাত্র বেতনে চাকরি করেন। বেতনের পাশাপাশি টিউশন করিয়ে কোনোমতে তাদের সংসার চালাতে হয়। করোনার মধ্যে প্রতিষ্ঠানের সাথে সাথে টিউশনিও বন্ধ আছে। তারা পড়েছেন মহা সমস্যায়। মান-সম্মানের ভয়ে কোথা থেকে হাত পেতে ত্রাণ নিতেও পারছেন না।
উপজেলার যাদবপুর বেড়াবাড়ী বাজার এলাকায় অবস্থিত নবসৃষ্টি শিক্ষা একাডেমিক স্কুলের অধ্যক্ষ রিফাত শারমিন রিতা বলেন, ‘এই অবস্থায় শিক্ষকদের নিয়ে আমরা দুর্বিসহ দিন কাটাচ্ছি। কিন্ডারগার্টেনের আয়ের ওপর শিক্ষক- কর্মচারী ও ঘরভাড়া চালাতাম। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় বিপদে পড়েছি। ৯ জন শিক্ষক ও ১ জন আয়া আছেন। তাদের কাউকে বেতন দিতে পাচ্ছিনা। ঘর ভাড়াও দিতে হচ্ছে নিজেদের বাড়ি থেকে এনে। তিনি এ অবস্থার অবসানে সরকারি প্রণোদনার দাবি জানান।
শহীদ ক্যাডেট একাডেমির পরিচালক মাসুদ কামাল ভূঁইয়া বলেন- কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষকরা নামমাত্র বেতনে চাকরি করেন। বেতনের পাশাপাশি টিউশন করিয়ে কোনোমতে তাদের সংসার চালাতে হয় । গত এক বছর ধরে করোনার কারনে সরকারী নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন আদায়ও বন্ধ রয়েছে। আমরা নিজেরাও চলতে পারতেছিনা শিক্ষকদের বেতনও দিতে পারতেছিনা। জমি বিক্রি করে ঘরভাড়া দিতে হচ্ছে। এতে করে কিন্ডার গার্টেনের মালিক এবং শিক্ষক-কর্মচারীরা লাজ লজ্জায় হাত না পাততে পেরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
সখীপুর উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও আদর্শ শিশু কানন প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অধ্যক্ষ কেবিএম রুহুল আমীন বলেন, ‘উপজেলার দেড় শতাধিক কিন্ডারগার্টেনে সহস্রাধিক শিক্ষক ও স্টাফরা বেতন পাননি । বেতন না পেয়ে তারা অসহায়ভাবে জীবন যাপন করছেন। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে অন্যদের মত কিন্ডার গার্টেন শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রণোদনার ব্যবস্থার দাবি জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা কিন্ডার গার্ডেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক শাহীন আল মামুন বলেন, কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকদের বেতন হয় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া টিউশন ফি থেকে। প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় টিউশন ফি আদায় বন্ধ রয়েছে। যার ফলে প্রতিষ্ঠানের মালিকরা শিক্ষক-কর্মচারী এবং ভবনভাড়া নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়ের মাধ্যমে ওইসব শিক্ষক-কর্মচারীর প্রণোদনার ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানান তিনি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) চিত্রা শিকারী বলেন, ‘কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকদের জন্য সরকারিভাবে প্রণোদনা দেওয়া বিষয়ে কোন প্রজ্ঞাপন পাইনি। সরকার প্রদক্ষেপ নিলে বিষয়টি তার নজরে রয়েছে বলে জানান। তবে একজন নাগরিক হিসেবে কারো ঘরে যদি খাবার না থাকে, তাহলে আমরা নিশ্চয় সেটা ব্যবস্থা করবো।’
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।
