এম সাইফুল ইসলাম শাফলু: টাঙ্গাইলের সখীপুরে দিন দিন আমের পাশাপাশি উন্নত জাতের বারোমাসী সিডলেস লেবু , পেয়ারা, আগাম জাতের টক বড়ই ও মাল্টা চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা। অধিক লাভজনক এসব ফল চাষ করে উপজেলার শত শত কৃষক লাভের মুখ দেখেছেন। পরিবারে ফিরে এসেছে স্বচ্ছলতা।
জানা যায়, উপজেলায় মোট ২৪০ হেক্টর জমিতে আম, ২০৫ হেক্টর জমিতে লেবু এবং ৭০ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ হয়েছে। এসব চাষ খুবই লাভজনক। পাশাপাশি পেয়ারা চাষের দিকেও ঝুঁকে পড়েছেন চাষিরা। চলতি মৌসুমে করোনাভাইরাস চিকিৎসায় ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল লেবুর চাহিদা বেড়ে যায়। মূল্য বেড়ে যাওয়ায় লাভবান হয়েছেন চাষিরা। অন্যান্য বছরের তুলনায় লেবু চাষিরা এবার তিনগুণ লাভবান হয়েছেন।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সর্বত্রই লেবু, মাল্টা, পেয়ারা ও আগাম জাতের বড়ই চাষ শুরু করেছেন। তবে ব্যাপকভাবে চাষ শুরু হয়েছে কালিয়া, কাকড়াজান ও গজারিয়া ইউনিয়নে।
কালিয়া ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের লেবুচাষি মোফাজ্জাল হোসেন বলেন, ‘বিদেশে ভালো করতে না পেরে দেশে ফিরে দুই একর জমিতে লেবু চাষ করে লেবু এবং চারা বিক্রি করে পরিবার-পরিজন নিয়ে আল্লাহর রহমতে অনেক সুখে আছি।
গজারিয়া ইউনিয়নের আবু তালেব মাস্টার জানান, তিনি প্রায় পাঁচ একর জমিতে উন্নত জাতের সিডলেস লেবু চাষ করেন। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। করোনার কারণে দূর-দূরান্ত থেকে পাইকার এসে লেবু ক্রয় করেছেন। প্রথম দিকে দাম ভালো থাকলেও বর্তমানে কমে গেছে বলে তিনি জানান।
উপজেলার ১ম এবং সফল মাল্টাচাষি মোসলেম উদ্দিন জানান, তিনি প্রায় ২০ একর জমিতে মাল্টা, সিডলেস লেবু, আগাম জাতের টক বড়ই চাষ করেছেন। গত বছরের তুলনায় এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় ব্যাপক ফলন হয়েছে। গাছপ্রতি তিনি প্রায় ছয় থেকে সাত মণ মাল্টা বিক্রি করতে পারবেন বলে ধারণা করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিয়ন্ত্র বর্মণ বলেন, এরই মধ্যে এ উপজেলায় লেবু, আম, মাল্টা, ড্রাগন, পেয়ারা ও আগাম জাতের টক বড়ই চাষ করে অনেক কৃষক স্বাবলম্বী হয়েছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ওইসব কৃষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে।
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।