কক্সবাজারের পেকুয়ায় প্রেমের ফাঁদে পেলে এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) প্রতারণার শিকার কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে প্রেমিক সাইদুল ইসলামসহ ৩ জনকে বিবাদী করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে জানা যায়, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের হরিণাফাঁড়ি এলাকার ইয়াকুব নবীর ছেলে সাঈদুল ইসলামের সঙ্গে বাদীর মেয়ের বছর দুই এক ধরে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠে। এ সূত্র ধরে কথা বলার জন্য প্রেমিক সাঈদুল ইসলাম ওই কিশোরীকে পরিবারের অজান্তে ব্যবহারের জন্য একটি সিম ও মোবাইল ফোন দেয়। প্রতিনিয়ত কথা হয় তাদের সঙ্গে বিনিময় হয় ভাব ও প্রেম। এরই মধ্যে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময় নানা স্থানে নিয়ে গিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১ টায় কল করে প্রেমিক সাইদুল ইসলাম ওই কিশোরীকে ফুসলিয়ে তার দোকান ঘরের পেছনে শয়নকক্ষে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে।
এরপর ওই কিশোরী বিয়ের কথা বললে সাইদুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়। এতে ওই কিশোরী ইজ্জত নষ্ট করছে বলে চিৎকার করলে সাইদুলের বাবা-মা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কিশোরীকে মারধর করে। পরে স্থানীয় সর্দারদের খবর দিয়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে এলে পরিস্থিতি সামাল দিতে শাহাদত হোসেন, শাহাবউদ্দিন, আরমান এরা স্থানীয়ভাবে মিমাংসার আশ্বাস দিয়ে শাহাবউদ্দিনের কাছে ওই কিশোরীকে জিম্মায় রাখেন।
এক পর্যায়ে সালিশি বিচার মেনে নিয়ে ওই কিশোরীর সঙ্গে সাইদুলের বিয়ের আশ্বাস দিলেও পরে তারা অস্বীকার করেন। বাধ্য হয়ে ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে পেকুয়া থানার পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে তার বাবার কাছে বুঝিয়ে দেন এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।
এ ব্যাপারে ওই কিশোরী জানায়, দীর্ঘ দিন ধরে তাকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছে সাইদুল।
এ দিকে ওই কিশোরীর বাবা বলেন, আমি ওই প্রতারকদের শাস্তি এবং এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। তিনি আরো বলেন, এ বিচার বানচাল করতে একটি মহল নানা চক্রান্ত করছে। এ বিষয়ে আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ ব্যাপারে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত কানন সরকার অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা জানিয়ে বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
