অনলাইন থেকে: ঝিনাইদহের শৈলকূপার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে বৃষ্টি (২০) নামে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে। দরিদ্র মাসুম রহমানের স্ত্রী বৃষ্টি প্রথম মা হতে ভর্তি হতে গিয়েছিলেন ওই প্রাইভেট ক্লিনিকে। শেষ পর্যন্ত প্রাণ গেল তার।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে ঘটনটি ঘটে। এ ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃষ্টি উপজেলার হারুনদিয়া গ্রামের মাসুম রহমানের স্ত্রী।

সিভিল সার্জন ডা. শুভ্রা রানী দেবনাথ শনিবার রাত ৯টার দিকে জানান, ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন- কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আলমগীর হোসেন (সভাপতি), সিভিল সার্জন দপ্তরের মেডিকেল অফিসার ডা. মেহেদী (সদস্য) এবং শিশু হাসপাতালের আরএমও ডা. মিজানুর রহমান (সদস্য সচিব)। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান সিভিল সার্জন।

সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. কনক হোসেন শুক্রবার বিকালে স্থানীয় ওই ক্লিনিকে সিরাজ অপারেশনটি করেন। এরপর শনিবার সকালে রুগীর মৃত্যু হয়।

তিনি আরও বলেছেন, ঘটনাটি নিয়ে কেও অভিযোগ করেনি। ইতোমধ্যে স্বজনদের সঙ্গে মিটমাট হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডা. কনক হোসেন জানান, শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে বৃষ্টির সিজার অপারেশন করেন তিনি। সে সময় অজ্ঞানের ডাক্তার হিসেবে সঙ্গে ছিলেন ডা. কাশমিম সূজন। রাত সাড়ে ৭টার দিকে রোগীর ঝাঁকুনি শুরু হয়। চিকিৎসা দেওয়ার পরে ঠিক হয়ে যায়। পরবর্তীতে রাতে আরেক দফায় রোগীর অবস্থা খারাপ হতে থাকে।

তিনি দাবি করেন, প্রসব পরবর্তী এ্যাকলেমশিয়াতে শনিবার বেলা ১১টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন ওই রোগী।

এদিকে বৃষ্টির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্লিনিক মালিক স্কুলশিক্ষক ফজলুর রহমানসহ অনেকে আত্মগোপন করেন। থানা থেকে পুলিশও ছুটে আসে। বেশ কিছু সময় সেখানে অবস্থান করেন তারা।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।