নাসুম-মিরাজ ঝলকে ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশের

মেহেদী হাসান মিরাজের শিকারযজ্ঞ গতিশীল থাকল আগের ম্যাচের মতোই। উইকেট না পেলেও নিয়ন্ত্রণ আর মিতব্যয়িতায় প্রথম ওয়ানডের সেরা বোলার নাসুম আহমেদও এবার একই রকম কার্যকারিতার সঙ্গে শিকার ধরতে থাকলেন টপাটপ।

আর প্রথম ম্যাচের তুলনায় গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামের উইকেটে যখন স্পিনারদের জন্য সহায়তা আরো বেশি আছে বলে মনে হলো টিম ম্যানেজমেন্টের, তখন একটি ঝুঁকি নিল তারাও। পেসার তাসকিন আহমেদকে বসিয়ে নামাল মোসাদ্দেক হোসেনকে। তাতে মিরাজ-নাসুম ঝলকের সঙ্গে যোগ হয়ে এই অফস্পিনারও এক বছর পর ওয়ানডে দলের একাদশে সুযোগ পেয়ে দিলেন আস্থার প্রতিদান।

ব্যস, তাতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং ভেঙে পড়ল আরেকবার। সেই ভেঙে পড়াটা হলো প্রথম ম্যাচের চেয়েও খারাপ। ১৪৯ রানের পুঁজি নিয়ে অসহায় আত্মসমর্পণে সিরিজে পিছিয়ে পড়া দল এবার মিরাজ-নাসুম-মোসাদ্দেকের স্পিন ত্রিফলায় বিদ্ধ হয়ে গুটিয়ে গেল মাত্র ১০৮ রানেই। ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্তকে (২০) হারালেও অধিনায়ক তামিম ইকবাল (৫০*) ও লিটন কুমার দাস (৩২*) মিলে এই রান অবলীলায় টপকে যাওয়ার সময় ২৯.২ ওভার বাকি!

ওয়ানডেতে এর আগেও আরো চারবার ৯ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। তবে এবারের মতো এত বল হাতে রেখে জেতেনি কখনোই। এমন অনায়াস জয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজও জিতে নিল তামিমের দল। তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০-তে এগিয়ে থাকা দল এই জয় দিয়ে দশে দশও করে ফেলল। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সিলেটের জয় দিয়ে সেই যে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের, দশম ম্যাচে এসেও সেটি অব্যাহত। টানা ১০ ম্যাচ জেতা দল এই নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টানা চতুর্থ দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজেও হারাল।

এবার হারানোর পথে গায়ানার উইকেটও হাত বাড়িয়েই থাকল। সফরকারী দলের স্পিনারদের বিপক্ষে ক্যারিবীয় ব্যাটারদের অসহায়ত্ব কখনো কখনো এই ধন্দেও ফেলল যে ম্যাচটি আবার মিরপুরেই হচ্ছে না তো! উইকেটের চরিত্র আগাম অনুমান করতে পারা বাংলাদেশ অধিনায়ক টস জিতে প্রথম ওয়ানডের মতোই আগে বোলিং নিতে বিলম্ব করলেন না একটুও। সেই সঙ্গে গত বেশ কিছুদিন ধরে দেশের বাইরে তিন পেসার খেলানোর নীতি থেকে সরে এসে বাড়াল স্পিনার। পাল্টাল আক্রমণ শুরুর ধরনও। প্রথম ওয়ানডেতে বোলিং ওপেন করা নাসুম আহমেদ ৮ ওভারে তিনটি মেডেনসহ ১৬ রান দিয়ে কোনো উইকেট না পেলেও সর্বনাশ করে ছেড়েছিলেন ক্যারিবীয়দের। এবার দল এই বাঁহাতি স্পিনারকে বোলিংয়ে আনল চতুর্থ বোলার হিসেবে। আক্রমণ শুরু করাল মোসাদ্দেককে দিয়ে।

এই অফস্পিনারই ভাঙেন ক্যারিবীয়দের ওপেনিং জুটি, কাইল মায়ার্সকে (১৭) বোল্ড করে। ৩৭ রান দিয়ে ওই একটি শিকারই তাঁর, তবে নিজের বোলিং কোটা শেষ করার আগেই তিনি শিকারযজ্ঞ শুরু করতে দেখেন নাসুমকে। শামার ব্রুকসকে (৫) বোল্ড করে বিদায় করা এই বাঁহাতি স্পিনার এর পর একই ওভারে তিন বলের মধ্যে ফেরান কয়েকবার বেঁচে যাওয়া শাই হোপ (১৮) ও ক্যারিবীয় অধিনায়ক নিকোলাস পুরানকে (০)। ৪৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসা ক্যারিবীয়রা এই বিপদও আর পরে কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

বরং পেসার শরীফুল ইসলাম এসে রোভম্যান পাওয়েলকে (১৩) তুলে নেওয়ার পর ক্যারিবীয় ব্যাটিংয়ের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকেছেন প্রথম ওয়ানডের ম্যান অব দ্য ম্যাচ মিরাজ। ৩ ওভারের মধ্যে ৩ উইকেট তুলে নেওয়া এই অফস্পিনার বোলিং শেষ করেন ৮ ওভারে একটি মেডেনসহ ২৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে। এবার ম্যাচের সেরা নাসুম ১০ ওভারে ১৯ রানে ৩ উইকেট নেওয়ার পথে মেডেন নেন চারটি। সব মিলিয়ে ক্যারিবীয় ইনিংসের ৩৫ ওভারের মধ্যে তিন স্পিনার মিলেই ২৮ ওভারে পাঁচটি মেডেনসহ ৮৫ রান খরচায় তুলে নেন ৮ উইকেট। স্পিনাররা এমন সংহারী হলে তো গায়ানাকে মিরপুর মনে হতে বাধ্য!

এই ধরনের আরও খবর

সর্বশেষ খবর