সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলাটা শেষ হয়েছে নির্ধারিত সময়ের আগেই। আলোর অভাবে খেলা যায়নি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত। তবে লাক্কাতুরা চা বাগান ঘেঁষা স্টেডিয়ামটিতে দিনের আলো যেভাবে কমছিল ঠিক সেভাবেই বাংলাদেশের ঘাড়ের উপর লিডের বোঝা বাড়াচ্ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
চতুর্থ দিন শেষে সফরকারীদের লিড ৩১৫, হাতে ৭ উইকেট। শেষদিনে বাংলাদেশের সামনে কত রান লক্ষ্য দিবে ক্যারিবীয়রা এটাই এখন বড় আলোচনা। যদিও বাংলাদেশর ব্যাটার তাওহীদ হৃদয় বলে গেলেন উইকেট এখনো যেমন আছে লক্ষ্য যাই হোক শুরু কেমন হবে তার উপর নির্ভর করবে সব।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে একসময় স্কোর ছিল ৭ উইকেটে ১৮৪ রান। সেখান থেকে তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান হৃদয়। তাদের সঙ্গে গড়া দুটি গুরুত্বপূর্ণ জুটিতে বাংলাদেশ পায় ৩০ রানের লিড। অথচ এই ইনিংস খেলার পথে কোনো রেকর্ডের হিসাব মাথায় ছিল না তার।
হৃদয় বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, সবার আগে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে দলের জন্য অবদান রাখতে পেরেছি। রেকর্ডের কথা আসলে মাথায় ছিল না। আমি কাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছি, কী হতে যাচ্ছে- এসব কিছুই ভাবিনি। তখন শুধু মনে হয়েছে, দলকে ভালো একটা অবস্থানে নিতে যতটা লড়াই করা যায়, সেটাই করতে হবে। আমি সেট ছিলাম, দিনটাও ভালো যাচ্ছিল, ব্যাটে ভালো লাগছিল। তাই চেষ্টা করেছি দলের জন্য যতটা সম্ভব অবদান রাখতে।’
শেষ দিকে তাইজুল ও তাসকিনের সঙ্গে ব্যাটিংয়ের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছেন হৃদয়। শুরুতে তাদের কম স্ট্রাইক দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও দুই সতীর্থের ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ তিনি। বিশেষ করে চাপের মুখে তাদের ডিফেন্স ও উইকেটে টিকে থাকার সামর্থ্যের প্রশংসা করেছেন এই ব্যাটার, ‘শুরুতে চেষ্টা করেছি, যতটা সম্ভব কম স্ট্রাইক ওদের দিতে। কারণ, যেকোনো ব্যাটসম্যানের জন্যই প্রথম কয়েকটা বল খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে ওদের ডিফেন্স বেশ ভালো ছিল, সে কারণেই উইকেটে অনেকক্ষণ টিকে থাকতে পেরেছে। দিন শেষে ওরা আমার পার্টনার। তাদের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। আমি যদি সতীর্থকে বিশ্বাসই না করি, তাহলে সামনে এগোব কিভাবে?’
তবে প্রথম ইনিংসে লিড পাওয়ার পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে নেই। দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের দৃঢ়তায় পঞ্চম দিনের আগে কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে স্বাগতিকরা। তবে বড় লক্ষ্য তাড়া করার সম্ভাবনা দেখছেন হৃদয়। তার মতে, এখনো ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো অবস্থায় রয়েছে সিলেটের উইকেট।
গত মে মাসে বাংলাদেশের দেওয়া ৪৬৮ রানের লক্ষ্যে ৩৯০ রান করেছিল পাকিস্তান। ফলে সিলেটে চতুর্থ ইনিংসেও উইকেট ব্যাটারদের সাহায্য করে। সেক্ষেত্রে যদি ৮০ ওভার থাকে আর ৩৫০-৩৬০ রানের টার্গেট বাংলাদেশ দেয়, বাংলাদেশের ব্যাটিংটা কেমন হবে? এমন প্রশ্নে হৃদয় বলেন, ‘উইকেট এখনো ভালো আছে। আমাদের শুরুটা ভালো করতে হবে। সেটা করতে পারলে আমার মনে হয় রান তাড়া করা সম্ভব। তবে কাল ওরা কত রানের লক্ষ্য দেয়, সেটা আগে দেখতে হবে। এরপর পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনা করব।’
