নিজস্ব প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে যৌতুক না পেয়ে শাপলা বেগম (২২) নামের এক গৃহবধূকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে তার শশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিসাধীন অবস্থায় ঈদের দিন বুধবার রাতে তার মৃত্যু হয়। নিহত শাপলা বেগম (২২) উপজেলার সল্লা ইউনিয়নের নরদহী চরপাড়া গ্রামের রাব্বি ইসলামের স্ত্রী এবং একই এলাকার বেল্লাল হোসেনের মেয়ে।
স্থানীয়রা জানায়, (২১অাগস্ট) মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমান একটার দিকে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে ছুটে যায়। তারা ঘরের ভিতরে গিয়ে দেখে শাপলা বেগমের শরীর অর্ধেক অংশ আগুনে পুড়ে গেছে । পরে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কমর্রত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় রেফার করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে ভর্তির পর বুধবার রাতে চিকিসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ব্যাপারে নিহতের মা মর্জিনা বেগম বলেন, আমার মেয়েকে যৌতুকের জন্য প্রতিনিয়ত নির্যাতন করা হতো। আমার মেয়ে আমাকে এবং আমার ছেলেকে ফোনে প্রায়ই এ কথা বলতো। ঘটনার আগের দিন এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। যৌতুক না পেয়েই আমার মেয়েকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি হত্যাকারীদের বিচার চাই।
নিহতের মামা সোরহাব বলেন, আমরা যখন ঘরে ঢুকি তখন দেখি শুধু তার শরিরে আগুন, কিন্ত তার হাতের পাশেই খাঁট ও পাশের আলনা ভর্তি কাপড় রয়েছে। সেখানে কোন আগুন লাগেনি। যদি অন্য কিছুতে আগুন লাগতো তাহলে অবশ্যই খাঁট ও আলনাতে রাখা কাপড়ে আগুন লাগতো। তারা পরিকল্পিতভাবে আগুনে পুড়িয়ে শাপলা বেগমকে হত্যা করেছে।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।