Homeটাঙ্গাইল জেলাঘাটাইলনিজের আঁকা ছবি প্রধানমন্ত্রীকে দেখাতে চায় টাঙ্গাইলের প্রতিবন্ধী মুন্নি

নিজের আঁকা ছবি প্রধানমন্ত্রীকে দেখাতে চায় টাঙ্গাইলের প্রতিবন্ধী মুন্নি

ঘাটাইল প্রতিনিধিঃ বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী হয়েও জীবন যুদ্ধে থেমে থাকেনি তার সুপ্ত প্রতিভা। মুখে ভাষা নেই। জন্ম থেকেই বধির মুন্নি। তৃতীয় শ্রেণি থেকে তার ছবি আঁকা শুরু। ছবি আঁকতে কোন প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা তার নেই।

তবুও চোখের দেখায় নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ফুটিয়ে তুলতে পারে মানুষ, প্রকৃতিসহ নানা ধরনের ছবি। যে কোন ছবি দেখে হুবুহু ওই ছবিটিই আঁকতে পারে সে। সে বঙ্গবন্ধুর ছবি আঁকতে বেশি পছন্দ করে। হৃদয়ে তার মহান নেতা ছবি রং তুলির প্রতিটি আচঁড়ে যেন তাই প্রকশ পায়। তার আঁকা বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম , বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার ও অনেক প্রাকৃতিক দৃশ্য শোভা পাচ্ছে তার ড্রয়িং রুমে।

কথা গুলো হলো টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী সুইটি আক্তার (মুন্নী) মনের কথা । সৃষ্টিকর্তা তাকে কথা বলার ক্ষমতা দেননি, কিন্তু দিয়েছেন সৃষ্টিশীল দুটি হাত। কথা বলতে না পারলেও, তার আঁকা ছবি ঠিকই কথা বলে। চোখের দেখা যে কোন দৃশ্য বা মানুষের ছবি অবলীলায় আঁকতে পারে সব ধরনের ছবি। এমনি এক প্রতিভাবান চিত্রশিল্পী শ্রবণ প্রতিবন্ধী সুইটি আক্তার মুন্নি (১৯)।

জন্ম শেরপুর জেলার শ্রীবর্দ্দী উপজেলার কাহনীয়া গ্রামে। বাবা পুলিশ কনস্টেবল আব্দুল মালেক ও গৃহিনী মা সুফিয়া বেগমের তিন মেয়ের মধ্যে বড় মুন্নি। বাবার চাকুরী সুবাদে পুরো পরিবারের স্থায়ী বসবাস এখন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পৌর এলাকার সবুজবাগে। তার বাবার নাম আব্দুল মালেক । বাক ফোঁটার আগেই মাত্র ছয় মাস বয়সে মুন্নি আক্রান্ত হন নিউমোনিয়ায়।

পরিবারের ধারণা হয়তোবা এ রোগই চিরতরে কেড়ে নিয়েছে তার মুখের ভাষা। অন্য সাধারণ শিশুর মতোই পরিবারে সে বেড়ে ওঠে। প্রথমে চান্দশী প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার হাতে খড়ি। সেখানে সে ৪র্থ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে। পরে উইজডম ভ্যালি থেকে পিএসসি পাশ করে ঘাটাইল গণ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে।

সুস্থ স্বাভাবিক ছাত্র ছাত্রীদের সাথে প্রতিযোগিতা করে ২০১৭ সালে সে এসএসসি এবং ২০১৯ সালে এইচএসসি পাশ করে। এখন সে টাঙ্গাইলের ভূয়াপুর সরকারি ইব্রাহিম খাঁ কলেজের ম্যানেজমেন্টের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী। তার স্বপ্ন ছিল চারুকলায় পড়া। কিন্ত বাক ও শ্রবন প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে যায়।

মা সুফিয়া বেগম জানান,আমার মেয়ে মুন্নি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি এঁকে উনাকে দেখানোর জন্য আকার ইঙ্গিতে ইচ্ছে পোষণ করে। আমি তার ইচ্ছের বিষয়টি কাউকেই কখনও বলিনি, এই প্রথম তোমাকে বললাম। জানি এ স্বপ্ন কখনও বাস্তব হবার নয়।

তার মা আরো জানান, মুন্নির অনেক ইচ্ছা একদিন ঢাকায় গিয়ে আর্ট প্রতিযোগিতায় অংশ নিবে। সে বিজয়ী হবে। প্রধানমন্ত্রীর হাত হতে আনবে পুরস্কার। কিন্তু কর্মব্যস্ত বাবা তাকে ঢাকায় নিয়ে যায়না, তাই

ইশারায় বুঝায় বাবার প্রতি তার অনেক অভিমান। ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্রী ছিল সে। সেখানে প্রতিবারই চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার প্রথম পুরস্কার যেন ওর জন্যই বরাদ্দ থাকত। বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মেয়ের ছবি আঁকা দেখে এলাকার সবাই অভিভূত। বাবা মা, এলাকার মানুষ থেকে শুরু করে তার শিক্ষক, ফুটফুটে এই মেয়েটিকে সবাই ভালোবাসে। ভালোবাসে তার সৃষ্টিশীল কাজকে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, ‘বাক প্রতীবন্ধী মুন্নির চিত্রকর্ম আমাকে মুগ্ধ করেছে। তার জন্য ভাতার কার্ড করে দেওয়ার পাশাপাশি, মুন্নির সুপ্ত প্রতিভা যেন বিকশিত হয় সে দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসন থেকে নেওয়া হবে।’

RELATED ARTICLES

Most Popular