লঞ্চে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান নিষিদ্ধ ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি বন্ধ করতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে… নৌপ্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি:নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি বলেছেন, লঞ্চে ধূমপান না করতে শতর্কীকরণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। উন্নত দেশে মানুষ আইন, বিধিনিষেধ সহজেই মেনে চলে। আইন ও নিয়ম-কানুন মানাতে আমাদের দেশের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। আমাদের সে ধরনের প্লাটফর্ম নেই। আমরা সেটা তৈরি করতে পারিনি।

গত শনিবার দুপুরে ঢাকায় সিরডাপ মিলনায়তনে ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণে নীতি-নির্ধারকদের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুয়র ‘ডরপ’ ও লক্ষ্মীপুর জার্নালিস্ট ফোরাম, ঢাকা যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ বাস্তবায়ন আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। উপস্থাপিত ৬টি সংশোধনী প্রস্তাব খুবই সময়োপযোগী। আমি মনে করি সরকারের প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয় এই সংশোধনী প্রস্তাব এর পক্ষে সমর্থন দেবেন ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি সংশোধনে ভূমিকা রাখবেন। আমি আমার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে লঞ্চে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান নিষিদ্ধ ও তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি বন্ধ করতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বাংলাদেশে দু’টি পক্ষ আছে। একটি অগ্রগতির পক্ষে অন্যটি টেনে ধরার পক্ষে। আমাদের পজিটিভ নিউজ নিয়ে আসতে হবে।

‘ডরপ’ এর চেয়ারম্যান মো. আজহার আলী তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুৃষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হেলাল উদ্দিন, ঢাকাস্থ লক্ষ্মীপুর জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি জাকির হোসেন লিটন, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সমন্বয়কারী হোসেন আলী খন্দকার, সাংবাদিক আহমেদ ফয়েজ, টাঙ্গাইলের বিড়ি শ্রমিক নেতা জীবন সাহা, ভোলার নাগরিক কমিটির সদস্য মো. হারুন অর রশীদ, ঢাকার যুব প্রতিনিধি তাবাসসুম খানম রাত্রি, ডরপ এর পরিচালক মোহাম্মদ যোবায়ের হোসেন। যমুনা ট্রেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি সুশান্ত সিনহা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের ৬টি দুর্বলতা সমূহ চিহ্নিত করে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করার প্রস্তাব সমূহ যেমন- সকল প্রকার পাবলিক প্লেস এবং পাবলিক পরিবহনে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান বিলুপ্ত করা, তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা, বিক্রয় কেন্দ্রে তামাক দ্রব্যের প্রদর্শনী নিষিদ্ধ করা, ই-সিগারেট বা ইমার্জিং হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্ট আমদানি, উৎপাদন, ব্যবহার ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করা, তামাক পণ্যের সকল প্রকার খুচরা ও খোলা বিক্রয় বন্ধ করা ও সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০% থেকে বাড়িয়ে ৯০% করা এবং তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট বা কৌটায় নূন্যতম পরিমাণ নির্ধারণসহ মোড়কীকরণে কঠোর নিয়ম আরোপ করা তথা প্লেইন প্যাকেজিং বাস্তবায়ন করা।

 

এই ধরনের আরও খবর

সর্বশেষ খবর