টাঙ্গাইলের চরাঞ্চলে তামাক চাষে সয়লাভ

0
224

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের চরাঞ্চল এলাকায় তামাক চাষে সয়লাভ হয়ে গেছে। উৎপাদনের সাথে জড়িতরা দীর্ঘ মেয়াদে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়লেও বেশি লাভের কারনে তারা চাষে ঝুঁকেছেন। ফসলি জমি হারাচ্ছে উর্বরতা। তামাক ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের নানা সহযোগিতায় চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকরা। জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে কালিহাতী, নাগরপুর, ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল সদর এবং দেলদুয়ার উপজেলায় বেশি তামাক চাষ হয়েছে। সরকারি তথ্যের চেয়ে বাস্তবে চাষকৃত জমির পরিমাণ আরো কয়েকগুণ বেশি।

সরেজমিনে কালিহাতীর উপজেলার চরাঞ্চল দূর্গাপুর ইউনিয়নের চরহামজানী গ্রামে দেখা যায়, অধিকাংশ কৃষকই তামাক চাষ করেন। বাড়িতে বাড়িতে চলছে তামাক পাতা শুকানোর কাজ। রোদযুক্ত স্থানে বাঁশের মাচায় তামাক পাতা শুকানো হচ্ছে। নারী-পুরুষ ও শিশু সবাই তামাক চাষ এবং শুকানোর কাজে ব্যস্ত। তাদের মুখে নেই মাস্ক, শরীরে নেই পোষাক। পুরো গ্রামে তামাকের গন্ধ ছড়িয়ে গেছে। এমন ভয়াবহ চিত্র তামাক চাষের প্রতিটি চর এলাকাতেই।

নুরুজ্জামান মিয়া (২৫) নামের এক তামাক চাষী বলেন কোম্পানী (তামাক ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান) থেকে আমাদের বীজ, সার, বিষ, ত্রিপল ও কাগজসহ উৎপাদনের যাবতীয় সামগ্রী দেয়। আবার তারাই তামাক পাতা কিনে নেয়। আরা শুধু চাষ করে দেই। এখানে মূলত দুটি কোম্পানী কাজ করে। আব্দুল কাদের ঠান্ডু নামের আরেক চাষী বলেন, ৫ বছর যাবত যাবত তামাক চাষ করছি। অর্ধেকেরও বেশি লাভ উঠে। শীরের ক্ষতি অয়। তাও করি। প্রতি কেজি তামাক ১১০-১২০ বিক্রি হয়। তবে পাতা ভেদে দাম দেয় কোম্পানী। কোম্পানীর লোক ছাড়া বাইরের কেউ কিনে না। চাষী আব্দুল আজিজ বলেন, আমার ক্ষেতের আশেপাশে সবাই তামাক আবাদ করে। আমি কি করমু? তাই বাধ্য হয়েই চাষ করি। আজিজের মেয়ে বলেন শুনছি তামাক চাষে শরীরের মেলা ক্ষতি অয়। তখন আমাগো ক্যারা দেখবো?

পরিবেশ উন্নয়নকর্মী সোমনাথ লাহিড়ী বলেন, তামাক ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান দাদন দিয়ে কৃষকদের চাষে উদ্বুদ্ধ করে। গ্রামের অসহায় কৃষক না বুঝেই তাদের জমি ও জীবনের চরম ক্ষতি করছে। এর থেকে বাঁচতে গনসচেতনতা এবং তামাকজাত পণ্যের উপর অতিরিক্ত কর আরোপ করা দরকার। যাতে আসক্তরা সহসাই কিনতে না পারে।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনম্টোল সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. এএসএম সাইফুল্লাহ বলেন, তামাক চাষ প্রক্রিয়া থেকে সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিপনণ এবং ব্যবহার পুরোটাই পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তামাক চাষে বিভিন্ন প্রকার রায়াসনিক ব্যবহার করা হয়। যা পানি ও বায়ুকে ভীষণভাবে দূষিত করছে। মাটির উর্বরতা হারাচ্ছে। বেশি লাভে তামাক চাষ আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এবিষয়ে সরকারকে আরো সৃদুষ্টি দিতে হবে।

টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা: আবুল ফজল মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বলেন, তামাক পাতা যখন জমি থেকে উঠানো, শুকানো এবং ঘরে জমা রাখা হয় তখন পাতার গুঁড়া বাতাসে ভেসে মানুষের শ্বাসনালীতে প্রবেশ করে। এতে শুকনো কাশি-শ্বাসকষ্ট ও তামাক সেবনের নেশা বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত এ কাজ করলে ব্রংকাইটিস, সিওপিডি এবং ফুসফুসের ক্যান্সার হতে পারে।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আহসানুল বাশার বলেন, তামাকের চাষের বিষয়ে সরকারিভাবে আমাদের কোন নির্দেশনা নেই। তাই এ ক্ষেত্রে আমরা মতামত ও হস্তক্ষেপ করি না। তবে তামাক চাষ রোধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক জমির উদ্দিন বলেন, কেউ অভিযোগ দিলে আমরা বায়ু দূষণ রোধে কাজ করি।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।