টাঙ্গাইলে ৩টি ড্রেজার ও ১টি ভেকু জব্দ

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: টাঙ্গাইলের নাগরপুরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ধলেশ্বরী নদীর বিভিন্ন স্থানে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধ বালি উত্তোলন এবং শেখ হাসিনা সেতুর নিচ থেকে ভেকু দিয়ে বালি কেটে পাচারের অপরাধে ৩ টি ড্রেজার মেশিন ও ১ টি ভেকু (গঝ১১০-৩) জব্দ করেছে নাগরপুর উপজেলা প্রশাসন।

নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১১টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অবৈধ মেশিনগুলো জব্দ করেন।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েকটি চক্র ধলেশ্বরী নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে ও নদীর বুকে জেগে উঠা চরে ভেকু দিয়ে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলন করে ট্রাক্টর ও ডাম্পার যোগে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছিল।

গত এক বছর ধরে ওই বালি খেকো চক্র নাগরপুরের মোকনা ইউনিয়নের কেদারপুরে অবস্থিত শেখ হাসিনা সেতুর নিচে অর্ধ কি.মি. এলাকার পয়েন্টে ধলেশ্বরী নদীর চর রাতের আধারে কেটে ডাম্পার যোগে পাচার করে আসছে।

অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলনের ফলে হুমকীর মধ্যে পড়তে যাচ্ছে ৫২০.৬০ মিটার পিসি গার্ডার এ সেতুটি। বালিগুলো ট্রাক্টর ও ডাম্পার যোগে পাচারের কারনে তিগ্রস্থ হচ্ছে নাগরপুর-মির্জাপুর ভায়া মোকনা সড়ক।

এদিকে নদী পাড়ের মানুষ প্রভাবশালী এ চক্রগুলোর ব্যাপারে প্রকাশ্যে কোন প্রতিবাদ করতেও সাহস পায় না যার ফলে অবাধে বালি কেটে সাবার করছিল বালিখেকোরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নদী পাড়ের এক মহিলা জানান, বালি খেকোরা এতটাই প্রভাবশালী যে বালি কাটতে বাধা দিতে গেলে মারতে আসে এবং পুলিশের ভয় দেখায়। তিনি আরও বলেন গত কয়েকদিন আগে রাতের বেলা পুলিশ এসে তাদের ধরে অজ্ঞাত কারনে আবার ছেড়ে দেয়। এতে করে আমরা আরও ভীত হয়ে পড়ি।

গতকাল ইউএনও অবৈধ বালি পাচারকারীদের ধরতে আসলে তারা পালিয়ে যায়। পরে তিনি অবৈধ মাটি কাটার যন্ত্র (ভেকু) জব্দ করে নিয়ে যান এজন্য আমরা নদী পাড়ের মানুষেরা ইউএনও সাহেবকে সাধুবাদ জানাই।

নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ধলেশ্বরী নদীতে পরিবেশ বিধ্বংসী কাজের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি নদী পাড়ের মানুষকে আস্বস্থ করে আরও বলেন যদি কেউ সেতুর নিচ থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে তাহলে আপনারা সরাসরি আমাকে জানাবেন আমি অবশ্যই আপনাদের সহযোগিতা করবো।

এই ধরনের আরও খবর

সর্বশেষ খবর