Homeটাঙ্গাইল জেলাভূঞাপুরে ৪০ দিনের কর্মসূচির কাজ: ২ মাসেও জুটেনি শ্রমিকদের মজুরি

ভূঞাপুরে ৪০ দিনের কর্মসূচির কাজ: ২ মাসেও জুটেনি শ্রমিকদের মজুরি

ফরমান শেখ- নিজস্ব প্রতিবেদক: হতদরিদ্র ফরিদা বেগম অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি প্রকল্পে মাটি কাটার একজন নারী দিনমজুর। ৪০ দিনের কর্মসূচির মধ্যে ৩৮ দিন কাজ করেছেন তিনি। এই নারী শ্রমিক ফরিদার বাড়ি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের তারাই গ্রামে।

সোম ও মঙ্গলবার দুপুরে তিনিসহ বেশ কয়েকজন এসেছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে। তার মতে, তাকে মাত্র ৬ দিনের মজুরি দেয়া হয়েছে। অথচ প্রত্যেক শ্রমিকের কাজ শুরুর দিন থেকে প্রতি সপ্তাহের মধ্যেই তাদের টাকা মুঠোফোনে দেয়ার কথা। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পর ২ মাস পার হলেও এখনো তার মজুরি জোটেনি।

ফরিদা বেগম বলেন, খেয়ে না খেয়ে ৩৮ দিন কাজ করেছি। তারমধ্যে আমাকে মাত্র ৬ দিনের টাকা দিয়েছে। কাজ করার সময় অন্যের থেকে ধার-দেনা করে সংসার ও সন্তানদের খরচ চালিয়েছি। পোলাপানগুলো ঈদে নতুন কাপড়-চোপড়ের জন্য কান্নাকাটি করছে।

ফরিদা একাই ভুক্তভোগী নয়; তার মতো উপজেলার কয়েড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন, জুলহাস প্রধান, মিনহাজ উদ্দিন, সোবাহান প্রধান বলেন, ৪০ দিন কাজের মধ্যে ৬ দিনের টাকা পেয়েছি। পাওনা টাকার জন্য মেম্বার, চেয়ারম্যানের কাছে গেলে তারা বলে কয়েক দিনের মধ্যে দিয়ে দেব। কিন্তু কয়েক দিন পেরিয়ে আজ দুই মাস চলছে।

তারা বলেন, কিছুদিন পরই ঈদ। ঈদের আগে টাকা না পেলে সন্তানদের নতুন জামা-কাপড় কিনে দিতে পারব না। আবার রোজার মাসে তেমন কাজ-কামও নেই। ৪০ দিনের কর্মসূচির টাকা পাওয়ার আশায় স্থানীয় এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলাম। কিন্তু ২ মাসেও টাকা না পাওয়ায় কিস্তির জন্য স্যারেরা বাড়িতে এসে চাপ দিচ্ছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে অতিদরিদ্রদের কর্মসূচির আওতায় ১ কোটি ১৭ লাখ ৬ হাজার টাকা বরাদ্দে এ উপজেলায় ৬টি ইউনিয়নে ৬৩৬ জন শ্রমিক ৪০০ টাকা চুক্তিতে দিনমজুরের কাজ করেছেন। তারমধ্যে গোবিন্দাসীতে ৯৩ জন, অর্জুনায় ১১৫ জন, গাবসারায় ১৫২ জন, অলোয়ায় ৮৫ জন, ফলদায় ৭২ জন এবং নিকরাইলে ১১৯ জন।

অর্জুনা ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল আলম খান মাহবুব জানান, হতদরিদ্র শ্রমিকরা তাদের মজুরির টাকার ওপর নির্ভর করে সংসার চালানোর পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কিস্তির টাকা পরিশোধ করে থাকেন। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পরও মজুরির টাকা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। কাজ শেষ হওয়ার পরও মজুরির টাকা না পাওয়ায় প্রতিদিন শ্রমিকদের কষ্টের কথা শুনতে হচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জহিরুল ইসলাম বলেন, নতুন বছর থেকে শ্রমিকদের মজুরির টাকা তাদের নিজ নিজ মুঠোফোনে দেয়া হচ্ছে। বকেয়া টাকা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে পেতে বিলম্ব হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে।

RELATED ARTICLES

Most Popular