Homeজাতীয়রাজনীতিতে কঠোর সমালোচনা হোক, তবে অবমাননা নয়: রিজভী

রাজনীতিতে কঠোর সমালোচনা হোক, তবে অবমাননা নয়: রিজভী

রাজনৈতিক সমালোচনায় শালীনতা ও মার্জিত ভাষা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কঠোর সমালোচনা করা যেতে পারে, তবে ব্যক্তিগত অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করা কোনোভাবেই উচিত নয়।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বিএফইউজের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, অতীতে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের অবমাননাকর ভাষায় সম্বোধন করার যে অপসংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তার পুনরাবৃত্তি হওয়া কখনোই কাম্য নয়। রাজনৈতিক বক্তব্যে বক্তব্য কঠোর ও ধারালো হতে পারে, তবে তা অবশ্যই শালীন ও মার্জিত ভাষায় হওয়া প্রয়োজন।

সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীর স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, রুহুল আমিন গাজী গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সবসময় আপসহীন ভূমিকা পালন করেছেন। চরম নির্যাতন ও নিপীড়নের মুখেও তিনি নিজের নীতি ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। তার প্রয়াণে সাংবাদিক সমাজ ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের মাঝে যে গভীর শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা অপূরণীয়। তবে জীবদ্দশায় তিনি শেখ হাসিনা সরকারের পতন দেখে যেতে পেরেছেন—এটি তার সহকর্মীদের জন্য কিছুটা হলেও সান্ত্বনার।

দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের দিনগুলোর কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, রুহুল আমিন গাজীর ওপর বহু হয়রানি ও নিপীড়ন চালানো হয়েছিল। তার মুক্তির দাবিতে প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন স্থানে যে আন্দোলন ও কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাতে তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, কঠিন সময়ে রাজনৈতিক মতপ্রকাশের কিছুটা জায়গা প্রেসক্লাব তৈরি করতে পারলেও একপর্যায়ে এটিও সরকারি মানসিক চাপের বাইরে থাকতে পারেনি।

গণতান্ত্রিক অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের পূর্ণ অধিকার থাকতে হবে। দলগত বা আদর্শগত পার্থক্য থাকলেও বিরোধী দলের অধিকারকে সম্মান জানানো উচিত।

সম্প্রতি বিএনপির একটি কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, বিরোধী দলের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যেন বাধা না দেওয়া হয়, সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রিজভী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল বা কারও ‘পিছনের উঠান’ বানানোর সুযোগ নেই। দেশের পররাষ্ট্রনীতি কীভাবে পরিচালিত হবে, তা বাংলাদেশকেই নির্ধারণ করতে হবে এবং নিজেদের অর্থনৈতিক ও সার্বিক চ্যালেঞ্জ নিজেদের সক্ষমতায় মোকাবিলা করতে হবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতামত ও কর্মসূচির ভিন্নতা থাকলেও গণতন্ত্র, জাতীয় স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষার মৌলিক প্রশ্নে একমত থাকা জরুরি। ভবিষ্যতে যে দলই রাষ্ট্রপরিচালনায় আসুক না কেন, তাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং অতীতের কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি রোধে সচেতন থাকতে হবে।

উক্ত আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক ও কবি আবদুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুঁইয়া এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

RELATED ARTICLES

Most Popular