নিউজ ডেস্কঃ কোচিং করতে গিয়ে শিক্ষকের লালসার শিকার হয়েছে এক ছাত্রী (১৮)। ওই ছাত্রী দুর্গাপুর ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেনীর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। ঘটনার পর ওই ছাত্রীকে প্রথমে দুর্গাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) রেফার্ড করা হয়েছে। গত ৭ জানুয়ারি ঘটনাটি ঘটলেও প্রথম দিকে প্রভাবশালীদের চাপের মুখে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু রামেক হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি হওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হয়।
ঘটনাটি জানাজানি হবার পর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে খোঁজ নিতে গেলে জানা যায় ভিকটিম ছাত্রীকে রামেক হাসপাতালের ওসিসিতে রেফার্ড করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জরুরী বিভাগের ভর্তি রেজিস্ট্রার ঘেঁটে দেখা গেছে সেখানেও পেট ব্যাথার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মহিলা ওয়ার্ডের রেজিস্ট্রারে যৌন হয়রানির বিষয়টি উল্লেখ আছে।
স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এক স্টাফ নার্স নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রথমে ওই ছাত্রী ঘটনার কথা গোপন করে। কিন্তু রাতে রক্তক্ষরণ শুরু হলে তিব্র ব্যাথায় কাতরাতে থাকে। এরপর তাকে জিজ্ঞেস করা হলে ঘটনার কথা স্বিকার করে। এ কারনে পরের দিন চিকিৎসকরে পরামর্শে তাকে রামেক হাসপাতালের ওসিসিতে রেফার্ড করা হয়েছে।
রামেক হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি হবার পর মামার বাড়ির লোকজন ঘটনা জানতে ভিকটিমকে চাপ প্রয়োগ করে। এ সময় ভিকটিম ছাত্রী জানায়, একই উপজেলার চৌপুকুরিয়া দিঘীর পাড়া গ্রামের আব্দুর রহিমের পুত্র রবিউল ইসলাম পুঠিয়ার বাণেশ^রে ইউনিক কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করতেন। রবিউলের সাথে পূর্ব পরিচয়ের রেশ ধরেই ওই কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয় ভিকটিম ছাত্রী। ভর্তির কয়েকদিন পর থেকেই কোচিংয়ে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা দেবার নাম করে ভিকটিম ছাত্রীকে শারিরীক ভাবে মেলামেশার প্রস্তাব দেয়া হত। শিক্ষক রবিউলের এমন প্রস্তাব নাকচ করছিল ওই ছাত্রী।
গত ৭ জানুয়ারি দুপুরের দিকে কোচিংয়ে যায় ভিকটিম ছাত্রী। কোচিং শেষে ভিকটিম ছাত্রীকে দেখা করে যেতে বলেন শিক্ষক রবিউল ইসলাম। কোচিং ছুটি হলে অন্যান্য শিক্ষক ও ছাত্র ছাত্রীরা যে যার মতো বাড়ি চলে যায়। এই সুযোগে শিক্ষক রবিউল তাকে জাপটে ধরে টেবিলের উপরে শুয়ে দিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষন করে। চিৎকার দিতে চাইলে শিক্ষক রবিউল ভিকটিমের মুখ চেপে ধরে বলেন, লোকজন আসলে তারই মান সম্মান যাবে। এরপর তাকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে চিৎকার না দেয়ার জন্য শাসানো হয়। এমনকি ঘটনাটি বাড়ি গিয়ে কাউকে জানালে শিক্ষক রবিউল বিষয়টি অস্বীকার করবে বলেও ভয় দেখায়। এ ঘটনায় এলাকায় শিক্ষক রবিউলের নাম প্রকাশ হয়ে পড়লে রবিউল প্রথম দিকে বিষয়টি অস্বীকার করে। পরে এলাকাবাসীর চাপের মুখে ঘটনাটি স্বীকার করে।
এদিকে, পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে প্রথম থেকেই তৎপর ছিল প্রভাশালী একটি মহল। প্রভাবশালী মহলের মধ্যে ঝালুকা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক সিনিয়র নেতাও রয়েছেন। ওই নেতার চাপের কারনেই এখন পর্যন্ত থানায় মামলা করতে পারেনি ভিকটিম ছাত্রীর মামার বাড়ির লোকজন। পুরো বিষয়টি মোটা অংকের টাকার বিণিময়ে রফাদফার চেষ্টাও চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মোতালেব জানান, বিষয়টি তার জানা নাই। এ ধরনের কোন অভিযোগ তার কাছে কেউ করেননি। অভিযোগ পেলে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানান।
