ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে প্রায় দেড় মাস পর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিনে দেখা গেছে বাজার রোডসহ মেইন রোডস্থ দোকান পাটে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। তবে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অন্যান্য দিনের মতো বন্ধ দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সরকার স্বাস্থ্য বিধিসহ বিভিন্ন নির্দেশনা মেনে দোকান পাটে কেনাকাটার পরিসরকে সীমিত রাখার নির্দেশ দেয়া হলেও কোনো মার্কেটেই ক্রেতাবা বিক্রেতারা তা মানছেন না। ঈদকে সামনে রেখে ঘাটাইলের তৈরি পোশাক কিংবা জুতা-স্যান্ডেলের দোকানে মানুষের ভিড় দেখা গেছে দুপুরের পর পর্যন্ত। তবে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক বিকাল চারটার পর ব্যবসায়ীরা বন্ধ করে দেন নিজস্ব দোকান পাট। এছাড়া শহরের রড-সিমেন্টসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের অনেক দোকান প্রথম দিনে বন্ধ দেখা গেছে।
অন্যান্য দোকানের তুলনায় ঈদের কেনাকাটার জন্য শহরের বিভিন্ন মার্কেটে মানুষের ভিড় বেশি লক্ষ্য করা গেছে। সেখানে বেচা-কেনার সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে তেমন একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। পছন্দের পোশাক, জুতা-স্যান্ডেল ও কসমেটিকসহ অন্যান্য সামগ্রী কেনার জন্য ক্রেতাদেরকে একেবারে গা ঘেঁষাঘেঁষি অবস্থা। এমনকি ঠেলাঠেলিও করতে দেখা গেছে। অনেককে আবার তাদের শিশুসন্তানদের নিয়েও কেনাকাটা করতে দেখা গেছে।
মার্কেটের হাতে গোনা কয়েকটি বড় দোকানে বিক্রেতাদের মুখে মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস পড়তে দেখা গেলেও ছোট-খাট দোকান গুলোতে বিক্রেতারা ন্যুনতমকোনসুরক্ষাব্যবস্থা গ্রহণকরছেননা।
ঘাটাইলেএকাধিক ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানাযায়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে আংশিক ভাবে কিছু দোকান খোলা হয়েছে। যদি ব্যবসায়ীরা সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান পরিচালনা করেন এবং স্থানীয়ভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বহুল ভাবে না ঘটে তাহলে পর্যায়ক্রমে সব মার্কেট ও দোকান পাট খুলবেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে সারাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সংখ্যা যখন ঊর্ধ্বমুখী ঠিক সেই মুহূর্তে ঈদের ওজুহাতে সারাদেশে মার্কেট ও দোকান পাট গুলো খুলার সরকারি সিদ্ধান্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন ঘাটাইলের সুশীল সমাজের অনেকেই।
তারা মনে করছেন, দোকান পাট খোলার সিদ্ধান্ত আর একটু ভেবে চিন্তে নেয়া উচিৎ ছিল। একবার সংক্রমণ ঘটে গেলে তখন আর কিছুই করার থাকবে না। করোনার চিকিৎসা থেকে প্রতিরোধ ব্যবস্থা অনেক বেশী কার্যকরী বলে জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় ব্যাবসায়ী জাহিদুর রহমান বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী উপজেলা ভুঞাপুর, মধুপুর, কালিহাতী, ধনবাড়ীতে করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এইসব উপজেলা থেকে অনেক মানুষই ঘাটাইলে ঈদের কেনাকাটা করতে আসেন, সেহেতু সেই সব উপজেলা থেকে মানুষের আগমন কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা উচিৎ।
এদিকে ঘাটাইলের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের দেখা গেছে মানুষকে সচেতন তার মাধ্যমে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে উদ্বুদ্ধ করতে।
উপজেলা নির্বাহীকর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার জানান, সরকার বিশেষ বিবেচনায় দোকান পাট খোলার অনুমতি প্রধান করেছে, কিন্তু দোকানে যেতেকাউকেবাধ্য করছেনা। আপনাদেরসচেতনতা, সতর্কতা এবং সঠিক সিদ্ধান্তের জন্যই ঘাটাইল উপজেলা বাংলাদেশের যেকোন উপজেলার তুলনায় নিরাপদ ও করোনাভাইরাস (কভিড- ১৯) সংক্রমণের মাত্রা নাই বললেই চলে। ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন।
