মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে এই চিত্র দেখা যায়।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও বিপৎসীমার ৬৭ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও ঝিনাই নদীর পানি ৪ সে.মি. বেড়ে বিপৎসীমার ৯২ সে.মি. ধলেশ্বরী নদীর পানি ৫ সে.মি. বেড়ে বিপৎসীমার ৭৮ সে.মি. এবং বংশাই নদীর পানি ৮ সে.মি. বেড়ে বিপদসীমার ১২ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও অন্যান্য নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
টাঙ্গাইলের ১২ টি উপজেলার মধ্যে ৯টি উপজেলাতেই বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। উপজেলাগুলো হচ্ছে ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল সদর, গোপালপুর, কালিহাতী, বাসাইল, মির্জাপুর, ঘাটাইল, নাগরপুর ও দেলদুয়ার। এ সব এলাকার প্রায় ২ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বানভাসি এসব মানুষ আশ্রয় নিয়েছে উঁচু বাঁধে। অনেকেই আবার মাচা তৈরি করে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। টিউবওয়েল তলিয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। সমস্যা হচ্ছে পয়ঃনিষ্কাশনেও। তবে এখন পর্যন্ত কোন ধরনের খাদ্য সহায়তা পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন বানভাসি মানুষ। এমনকি খোঁজ খবর নেয়নি কোন জনপ্রতিনিধি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত বন্যায় ৭৫০ হেক্টর রোপা আমন ও ১০ হেক্টর জমির সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় তলিয়ে যাচ্ছে একের পর এক আমন ও সবজি।
বন্যার সঙ্গে টাঙ্গাইলে ভাঙনও অব্যাহত রয়েছে। জেলার বাসাইল, টাঙ্গাইল সদর, কালিহাতী, নাগরপুর, ভূঞাপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ৮০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙন চলছে। বর্ষার শুরু থেকে এ পর্যন্ত ভাঙনে গৃহহীন হয়ে পড়েছে সহস্রাধিক পরিবার। নদীগর্ভে চলে গেছে শত শত একর ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বহু স্থাপনা। ভাঙন অব্যাহত থাকায় হুমকিতে রয়েছে সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের পাছবেথইর এলাকার শহর রক্ষা বাঁধ।
এদিকে জেলার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। ভাঙন হুমকিতে রয়েছে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলতে যাওয়া এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে না। ফলে বন্ধই থেকে যাবে ক্লাস কার্যক্রম। আবার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার্তদের জন্য খোলা হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্রে।
টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল বাশার আরটিভি নিউজকে জানান, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত ও বন্যা স্থায়ী হলে ক্ষতির পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম আরটিভি নিউজকে জানান, জেলার বিভিন্ন স্থানে ৮০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙন রয়েছে। পানি নেমে গেলে ভাঙনের বিষয়টি সঠিকভাবে নিরূপণ করা যাবে। আর যেখানে ভাঙন দেখা দিয়েছে সেখানে অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
বন্যার বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো আতাউল গনি আরটিভি নিউজকে বলেন, বন্যার্তদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দ রয়েছে। এ পর্যন্ত ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা বিতরণ ও ২০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছ।
