নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে উপজেলায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় শুকুর (৩০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছে। এসময় প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন নিহতের ভাই আব্দুল্লাহ (৫০)। আহত আব্দুল্লাহকে টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ মে) ঈদ-উল ফিতরের দিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের গোলড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শুকুর (৩০) গোলড়া পশ্চিম-উত্তর পাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল গণি মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধারালো ছুরি, রামদা ও চাপাতি নিয়ে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে মাঝে মধ্যেই কিছুটা ধাও
য়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। জানা যায়, এলাকায় মাদক ব্যবসায় দুই গ্রুপের আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তার এবং নানা উশৃংখল কর্মকান্ডকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের বিরোধ সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিন শুকুর গ্রুপ সন্ধ্যায় অনুসারীদের নিয়ে মেশিন ঘরের পাশে ধান ক্ষেতে আড্ডা দিতে ছিলেন।
এ সময় প্রতিপক্ষ যুবলীগ নেতা শরীফ গ্রুপ সুকৌশলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ধারালো দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা করে শুকুর গ্রুপের উপর। হামলার এক পর্যায়ে এলোপাথারী কুপিয়ে শুকুরের বাম হাত দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে, ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় গুরুতর আহত হয় নিহত শুকুরের বড় ভাই আব্দুল্লাহ। পরে স্বজনরা আহত আব্দুল্লাহকে টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে পুলিশ গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
নিহতের স্ত্রী মিতু আক্তার বলেন, “শরিফ মাদকের ব্যবসা করে তার সাথে আমার স্বামীকেও এই ব্যবসা করতে বলে। কিন্তু আমার স্বামী তার কথামতো এ ব্যবসা না করায় দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ঈদের দিন সন্ধ্যায় আমার স্বামীসহ কয়েক জন আমাদের মেশিন ঘরের পাশে বসে গল্প করার সময় শরিফ গ্রুপের লোকজন হামলা চালায়। মাদক ব্যবসায় তার সাথে সঙ্গ না দেয়ায় আমার স্বামীকে শরিফসহ তার গ্রুপের ১০/১৫ জন মিলে হামলা করে কুপিয়ে হত্যা করে। এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
নিহত শুকুরের মা রূপবান, বোন শোমলা, আহত ভাই আব্দুল্লাহর স্ত্রী ময়না বলেন, “ঈদের দিন সন্ধ্যায় শুকুর তার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে আমাদের মেশিন ঘরের পাশে ধান লওয়ার খোলায় বসে গল্প করার সময় দাও ছুড়ি নিয়ে হামলা করে কুপিয়ে শুকুরকে হত্যা করে। তখন তাদের সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হয় আব্দুল্লাহ। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
উল্লেখ্য, বিগত ২০১৮ সালের ২ জুন মাদক বিরোধী অভিযানে র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে শুকুরের আরেক ভাই রুহুল আমিন (৩২) নিহত হয়। র্যাবের দাবি নিহত রুহুল আমিন তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন।
কালিহাতী থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, মাদক নির্মূলে সর্ব্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে আর এ নিয়ে গ্রুপিংয়ের প্রশ্নই ভবিষ্যতে আসবেনা।
নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।