রবিবার, মে ৩, ২০২৬
Homeটাঙ্গাইল জেলাধুলায় ধূসর টাঙ্গাইলে আক্রান্ত বয়স্ক ও শিশুরা

ধুলায় ধূসর টাঙ্গাইলে আক্রান্ত বয়স্ক ও শিশুরা

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: টাঙ্গাইলে শুষ্ক মৌসুমে শহরে ধুলা দূষণ ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। ধুলা দূষণের ফলে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে ধুলাজনিত রোগব্যাধির প্রকোপ। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে রোগ জীবাণুমিশ্রিত ধুলা ফুসফুসে প্রবেশ করে সর্দি, কাশি, ফুসফুস ক্যান্সার, ব্রংকাইটিস, শ্বাসজনিত কষ্ট, হাঁপানী, যক্ষা, এলার্জি, চোখ জ্বালা, মাথা ব্যথা, বমি ভাব, চর্মরোগসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শহরবাসী। এরমধ্যে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরাই ধুলা দূষণের ফলে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ধুলা দূষণে নাকাল শহরবাসী। অথচ এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদাসীন। শহর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বে যারা আছেন তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না। এজন্য বরাদ্দকৃত অর্থ অসাধু কর্মকর্তা আত্মসাৎ করছেন। এই অর্থ আত্মসাতকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের এক নিবন্ধে শহরে ধুলা-দূষণের অনেক উৎসের উল্লেখ রয়েছে। এরমধ্যে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শহরে বিভিন্ন রাস্তা ঘাট খোঁড়াখুঁড়ি। বিভিন্নস্থানে অপরিকল্পিতভাবে কোন সমন্বয় ছাড়াই, সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি ও ড্রেনেজ সুবিধার জন্য চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। এর পাশাপাশি শহরের আশেপাশে আছে অনেক ইটের ভাটা। এসব ইট ভাটা থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক ধুলা উড়িয়ে ইট নিয়ে রাস্ত দিয়ে চলাচল করছে। তখন আশপাশের এলাকা ধুলি-ধুসর হয়ে পড়ে। এছাড়াও রয়েছে প্রতিনিয়ত মাটি, বালিভর্তি আচ্ছাদনহীন অবস্থায় ট্রাক শহরে চলাচল করা, ড্রেন পরিস্কার করে রাস্তার পাশে স্তপ করে রাখা, মেরামতহীন ভাঙ্গাচোরা রাস্তায় যানবাহন চলাচল, পাকা ভবন নির্মাণের সময় নিয়ম না মেনে মাটি, বালুসহ অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী দীর্ঘদিন যত্রতত্র ফেলে রাখা, রাস্তার দু’পাশে ময়লা আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা, ইট-পাথর মেশিনে ভাঙ্গা, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, শহরের প্রবেশ পথসহ শহরের গুরুত্বপূর্ন যায়গায় ময়লা আর্বজনা ফেলা ইত্যাদি প্রতিনিয়ত বায়ু দূষণ সৃষ্টি করে।

এরকম অসংখ্য উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ ধুলা বাতাসে মিশে অবরুদ্ধ করে ফেলেছে শহরবাসীর নিঃশ্বাস। পরিসেবা প্রদানকারী সংস্থাসমূহ অবকাঠামো তৈরি, সম্প্রসারণ ও মেরামত করার সময় খননকৃত মাটি ও অন্যান্য সামগ্রী রাস্তায় ফেলে না রেখে দ্রুত অপসারণের জন্য অর্থ বরাদ্দ থাকে। বরাদ্দকৃত অর্থ খরচ দেখানো হলেও এর সঠিক ব্যবহার দৃষ্টিগোচর হয় না। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা এ জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্বহীনতাই অন্যতম কারণ বলে মনে করেন। প্রিভেনটিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলছেন, পরিবেশ দূষণের বেশ কয়েকটি ভাগ রয়েছে। যেমন বায়ু দূষণ, পানি দূষণ, খাদ্য দূষণ ইত্যাদি রয়েছে। এর সবগুলোর ফলেই কোন না কোনভাবে মানুষ ক্ষতির শিকার হচ্ছে।

দূষণের শিকার দরিদ্র নারী, শিশুরা ব্যাপকভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছে। কারণ তাদের বেশিরভাগই দূষিত এলাকায় বসবাস করেন, যেখানে সীসা দূষণেরও ঝুঁকি রয়েছে। এর ফলে শিশুদের বুদ্ধিমত্তা বিকাশে এবং স্নায়ুবিক ক্ষতি হতে পারে। রাসায়নিক মিশ্রণ আছে, এমন দুষিত বায়র সংস্পর্শে থাকলে চোখ, নাক বা গলার সংক্রমণ বা ক্ষতির কারণ হতে পারে। সেই সঙ্গে ফুসফুসের নানা জটিলতা, যেমন ব্রঙ্কাইটিস বা নিউমোনিয়ো, মাথাব্যথা, অ্যাজমা এবং নানাবিধ অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে। বায়ু দূষণের সঙ্গে ডায়াবেটিসের সম্পর্ক দেখতে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

RELATED ARTICLES

Most Popular