নিজস্ব প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের সখীপুরে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিবন্ধী নারী আরজিনা আক্তার জয়লাভ করেন। ওই নির্বাচনে তিনি সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। আরজিনা আক্তার এক হাজার ৭৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরজিনা খাতুন পেয়েছেন এক হাজার ১১২ ভোট। চারজন নারী এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
আরজিনা আক্তার ইছাদিঘী আতিয়াপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আশরাফ ভূঁইয়ার মেয়ে। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের ঘরে জন্ম নেয় এক মেয়ে ও এক ছেলে। এরপর একদিন স্বামী তাঁর ডান হাতের গোড়ার দিকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এরপর তাঁর হাতটি কেটে ফেলতে হয়। ভেঙে যায় সংসার। আবার ঠিকানা হয় বাবার সংসার। সন্তান নিয়ে নানা কষ্টে দিন কাটে তাঁর। কিন্তু থেমে থাকেনি আরজিনার জীবনসংগ্রাম। গ্রামের মানুষের বিপদে-আপদে ছুটে বেড়ান এ বাড়ি ও বাড়ি।
পাশে দাঁড়ান অসহায়দের। বাল্যবিবাহ, যৌতুক, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত সময় পার করেন আরজিনা। গ্রামের প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়ান তিনি। একসময় তাঁর কাজের সীমানা হয়ে ওঠে গ্রাম পেরিয়ে পুরো উপজেলা। নির্বাচিত হন উপজেলা প্রতিবন্ধী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি। কিন্তু থেমে থাকেননি তিনি। এরপর দায়িত্ব পান ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। একসময় গ্রামের মানুষের অনুরোধে তিনি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেন। এলাকার মানুষ বিপুল ভোটে তাঁদের প্রিয় আপাকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করেন। চমক দেখান বিজয়ী হয়ে।
ওই গ্রামের শিক্ষক শেখ চান মাহমুদ বলেন, “আরজিনা আক্তার নিজে একজন প্রতিবন্ধী ও সংগ্রামী মানুষ। এলাকার সব অসহায় মানুষের পাশে তিনি দাঁড়িয়েছেন বলেই মানুষ ভালোবেসে তাঁকে প্রতিনিধি নির্বাচন করেছেন। অসহায় মানুষ হয়েও মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়, তার দৃষ্টান্ত আরজিনা আক্তার। তিনি হতে পারেন আমাদের সবার প্রেরণা।”
উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও নারী আন্দোলনের নেত্রী অধ্যক্ষ মুসলিমা খাতুন বলেন, “আরজিনা আক্তার সমাজের সবার চোখ খুলে দিয়েছেন। তাঁর কষ্টকর ও সংগ্রামীজীবন সমাজকে পথ দেখাবে-হবেন অন্যের অনুকরণীয়। কোনো বাধা যে বাধা নয়, তার প্রমাণ দিয়েছেন আরজিনা।
আরজিনা আক্তার বলেন, “জীবনসংগ্রামে আমি থেমে যাইনি। একজন অসহায় মানুষ হিসেবে সব মানুষের সময় অসহায় পাশে দাঁড়াবার চেষ্টা করেছি। বিপদে- আপদে সময়-অসময় আমি মানুষের ডাকে ছুটে গিয়েছি। সংসারের সুখ না পেলেও মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেছি। সুখ খোঁজার চেষ্টা করেছি। নির্বাচন করতে আমার কোনো টাকা লাগেনি, আমার কোনো টাকা নাই। এলাকার মানুষ শুধু ভোটই দেননি টাকা-পয়সা দিয়েও সহায়তা করেছেন। আমি সবার কাছে ঋণী। ভালোবাসায় চিরকৃতজ্ঞ। আরো বেশি বেশি সেবা দিতে চাই।’
