টাঙ্গাইলের সখীপুরে আশরাফুল (৩) নামে এক শিশুকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মা আকলিমা বেগমের (৩৫) বিরুদ্ধে। এ সময় তার আরেক মেয়ে সিদরাতুল (৮)কেও ছুরিকাঘাতে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে আকলিমা আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছে পরিবার।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার বড়চওনা ইউনিয়নের খালিয়ার বাইদ (মুজিবনগর মোড়) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সকালে আকলিমাকে হেফাজতে নেয় সখীপুর থানা-পুলিশ।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহিন মিয়ার প্রথম স্ত্রী নাসিমা আক্তারের সন্তান না হওয়ায় তিনি চার বছরের এক মেয়েসহ আকলিমাকে বিয়ে করেন। পরে আকলিমার ঘরে আশরাফুলের জন্ম হয়। শিশুটির বয়স ৪০ দিন হলে আকলিমা তাকে প্রথম স্ত্রী নাসিমার কাছে রেখে ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতে যান। এরপর নাসিমার কাছেই বড় হতে থাকে আশরাফুল।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আশরাফুল নাসিমাকে ‘বড় মা’ এবং আকলিমাকে ‘আন্টি’ বলে ডাকত। এ বিষয়কে কেন্দ্র করেই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার রাতে আকলিমা তার ছেলে আশরাফুল ও মেয়ে সিদরাতুলকে ছুরিকাঘাত করেন। এতে আশরাফুল গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সিদরাতুলও গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার পর আকলিমা আত্মহত্যার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে বাড়ির উঠানে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখেন। পরে সকালে পুলিশ গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
শিশুটির বাবা শাহিন মিয়া বলেন, প্রায় ৩০ বছর পর আল্লাহ তাকে একটি পুত্রসন্তান দিয়েছিলেন। সেই সন্তানকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল সখীপুর ও ভালুকা থানার মধ্যবর্তী এলাকায়। ঘটনার পর শিশুটিকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং তার মরদেহ সেখানেই রয়েছে। নিরাপত্তা ও চিকিৎসার স্বার্থে শিশুটির মাকে সখীপুর থানা-পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অন্যান্য আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
