বুধবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬
Homeটাঙ্গাইল জেলাসখিপুরসখীপুরে স্বাস্থ্য সহকারীর রহস্যজনক মৃত্যু: সন্দেহভাজন যুবকের সন্ধানে পুরস্কার ঘোষণা

সখীপুরে স্বাস্থ্য সহকারীর রহস্যজনক মৃত্যু: সন্দেহভাজন যুবকের সন্ধানে পুরস্কার ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের সখীপুরে স্বাস্থ্য সহকারী আউয়াল শফীর (৪৫) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় এক যুবককে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ। ওই যুবকের ছবি প্রকাশ করে তাঁর সন্ধান ও তথ্য চেয়েছে সখীপুর থানা-পুলিশ। সন্দেহভাজন যুবকের সন্ধান বা তাঁর সম্পর্কে তথ্য দিতে পারলে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে পুরস্কারের পরিমাণ জানানো হয়নি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পুলিশ সন্দেহভাজন ওই যুবকের ছবি প্রকাশ করে তাঁর সন্ধান ও তথ্য চায়। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওসি মো. মুরাদ হোসেন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচন হতে পারে।’ তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে ২ সেপ্টেম্বর বেলা পৌনে ১টার দিকে নলুয়া-বাসাইল সড়কের বাছেত খান উচ্চবিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশ থেকে আউয়াল শফীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি সখীপুর উপজেলার বোয়ালী গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে এবং সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র ও ঘটনাস্থলের বর্ণনা অনুযায়ী, সড়কের ওপর আউয়াল শফীর রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা পুলিশকে খবর দেন। তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং পাশে তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেল পড়ে ছিল।

ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে দ্রুতগতির কোনো অজ্ঞাত যানবাহনের চাপায় তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করেছিল পুলিশ। তবে নিহতের পরিবার ও স্বজনেরা শুরু থেকেই ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছেন।

নিহতের চাচাতো ভাই জিয়া হাবিব, মাওলানা ফরিদ উদ্দিনসহ স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর গলা ও মাথায় ক্ষতবিক্ষত অবস্থার কথা উল্লেখ করে ঘটনাটি স্বাভাবিক সড়ক দুর্ঘটনা বলে মনে হয়নি বলে জানান। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেন।

ঘটনার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান ঢাকা থেকে সখীপুরে এসে সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।

পরদিন ৩ সেপ্টেম্বর আউয়াল শফীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। একই দিন নিহতের স্ত্রী তানিয়া আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সখীপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে আউয়াল শফীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

RELATED ARTICLES

Most Popular