নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় চলমান কর্মবিরতি ও আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাসপাতাল প্রশাসন, মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ও টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর সঙ্গে বৈঠকের পর তারা আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
এর আগে ধর্মঘটের খবর পেয়ে দুপুরে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু। সেখানে তিনি আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবিগুলো শোনেন।
বৈঠকে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ও মিডলেভেল চিকিৎসক পদায়ন, দর্শনার্থী প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করতে আনসারদের ডিউটি রোস্টারসহ পাঁচ দফা দাবি নিয়ে আলোচনা হয়। দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাসের পর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন।
আন্দোলনরত চিকিৎসকদের উদ্দেশে আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন, তাঁর বাবা একজন চিকিৎসক ছিলেন এবং তাঁর মেয়েও চিকিৎসক। বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও চিকিৎসকরা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে উল্লেখ করে তিনি টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংঘটিত ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, তাঁর ছোট ভাই টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বর্তমানে সরকারি কাজে বিদেশে রয়েছেন। তিনি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি। এ ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানান তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. মো. আল-আমিন সিদ্দিকীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুছ টাঙ্গাইল সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগে মোছাদ্দেক আলী খানসুর তুহিন, পলি খানসুর ও খন্দকার বদরুল রহমান বাবুলসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়। হামলার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতিতে যান এবং বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। পরে রোববার বৈঠকের পর আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন তারা।
