নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: মেয়েকে ইভটিজিংয়ের বিচার না পেয়ে কষ্ট আর অভিমানে চিরবিদায় নিলেন এক বাবা। শুক্রবার ভোর রাতে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নে বিলপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান।
মৃত শাহজাহান মিয়া ওই গ্রামের সংবাদপত্র বিক্রেতা ছিলেন। দুই ছেলে ও দুই কন্যা সন্তানের জনক তিনি। বড় মেয়ে প্যারা মেডিকেলে পড়ে। ছোট মেয়ে সুমনা বাসাইল জোবেদা-রুবেয়া মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী। দুই ছেলের একজন অষ্টম শ্রেণী ও আরেকজন ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে। সংবাদপত্র বিক্রির আয় দিয়েই তার সংসার চলতো।
জানা যায়, কলেজে আসা-যাওয়ার পথে মেয়ে সুমনাকে প্রায়ই রাস্তাঘাটে উত্যক্ত করতো একই এলাকার মাহফুজুর রহমানের বখাটে ছেলে সোহেল মিয়া। প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সম্প্রতি সোহেল সুমনাকে মারধর করে। বিষয়টি নিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন শাহজাহান। গ্রাম্য মাতাব্বরসহ বিভিন্ন দপ্তরে গিয়েও বিচার পাননি তিনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানায় অভিযোগ দায়ের করেন শাহজাহান।
মৃত্যুর আগেও বার বার তার কষ্টের কথা বলে গেছেন স্বজনদের কাছে। এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না শাহজাহানের স্বজনরা। বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন তার স্ত্রী ও কন্যাসহ পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় বখাটে সোহেলের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন তারা।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দু’পক্ষকে ডেকে শুনানি করেন। পরে কাঞ্চনপুর ও হাবলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের বিষয় সমাধানের দায়িত্ব দেন। এরপর থেকেই মূলত শাহজাহান ভেঙে পড়েন। থানা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বিচার না পেয়ে তিনি বিমর্ষ হয়ে যান।
কন্যার উপর নির্যাতনের বিচার আর কখনও পাবেন না এমন বদ্ধমূল ধারণা থেকে গত শুক্রবার ভোর রাতে তিনি মারা যান।
ঘটনাটিকে দুঃখজনক অভিহিত করে নির্যাতনে স্বীকার পরিবারটিকে ন্যায্য বিচার নিশ্চিতে সব ধরনের চেষ্টার কথা বলেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্না।
