নভেম্বরে বিশ্বকাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কয়েক মাস আগে থেকেই দেশ জুড়ে চলছে বিশ্বকাপ উন্মাদনা। নিজ নিজ দলকে ভালোবেসে বিভিন্ন ভাবে জানান দিচ্ছেন ভক্তেরা। শহর থেকে শুরু করে পাড়া মহল্লায় চলছে প্রিয় নিজ নিজ সমর্থিত দলের পক্ষে বিভিন্ন আয়োজন।
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা গাইবান্ধা ইউপির চরদাদনা গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে আর্জেন্টিনার ভক্ত কলেজছাত্র শামীম তার নিজের ঘর আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে রং করেছেন। একইসঙ্গে ফুটবলের সুপারস্টার মেসির ছবি অংকন করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন। যেটি এলাকায় এখন আর্জেন্টিনা বাড়ি নামে বললেই এখন এলাকার সবাই চিনেন শামীমের বাড়ি।
ফুটবলপ্রেমী শামীম হাসান ৫ ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট। তিনি ইসলামপুর কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি একটি দোকান পরিচালনা করেন। সেই দোকানের জমানো টাকা থেকেই তার টিনের বাড়িকে রাঙিয়েছেন আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে। যার মাঝখানে রয়েছে মেসির ছবি।
আর্জেন্টিনার ভক্ত কলেজছাত্র শামীম তার নিজের ঘর আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে রং করেছেন।
এলাকাবাসী জানান, ছোট বেলায় ম্যারাডোনার খেলা দেখে আর্জেন্টিনার প্রেমে পড়ে শামীম। এরপর থেকে মনে প্রাণে আর্জেন্টিনা দল সর্মথন করে আসছেন । চলতি বছরের অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলকে শুধু সর্মথন নয়, তার নিজের ঘরটি আর্জেন্টিনা পতাকার রঙে রাঙিয়েছেন। বর্তমানে লিওলেন মেসির খেলা দেখে মুগ্ধ সে। এবার আর্জেন্টিনা দল বিশ্বকাপ জিতবে এমন প্রত্যাশা তার।
আর্জেন্টিনা দলকে শুধু ভালোবেসে ঘরের রং করেছেন এমন নয় আর্জেন্টিনার খেলার দিন এলাকার আর্জেন্টিনার সর্মথকদের নিয়ে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজনের পরিকল্পনাও আছে বাংলাদেশের মেসি শামীমের। প্রতিদিন তার আর্জেন্টিনা বাড়ি দেখতে আশপাশের এলাকার মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন।
বুধবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শামীম মিয়ার নতুন বাড়ির টিনসেড ঘরের বেড়ার রং করা হয়েছে আর্জেন্টিনার পতাকা আদলে। ঘরের বেড়াতে এঁকেছেন আর্জেন্টাইন ফুটবলার মেসির ছবি। ঘরটির চালে আর্জেন্টিনার পতাকার পাশে নিজে হাতে অঙ্কনও করেছেন নিজ দেশ বাংলাদেশের পতাকাও। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুক টুইটারে এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে চলছে রসাত্মক আলোচনা।
ফুটবলপ্রেমী শামীম হাসান বলেন, ছোট থেকেই আর্জেন্টিনা ফুটবল দলকে ভালোবাসি। বেশি ভালোবাসি আর্জেন্টিনা তারকা ফুটবলার মেসিকে। তার ভালো বাসা থেকেই নিজের ব্যবসা থেকে কিছু কিছু টাকা জমিয়ে একটি টিনের ঘর করে আর্জেন্টিনা পতাকার আদলে রং করেছি। টাকা থাকলে বিল্ডিং করতাম।
শামীমের চাচাতো ভাই সুমন মিয়া বলেন, ‘ছোটকাল থেকেই দেখে আসছি শামীম মেসির অন্ধ ভক্ত। আর্জেন্টিনার হারকে সে কখনো মেনে নিতে পারে না। এমনও দেখেছি আর্জেন্টিনা হেরে গেলে সে কান্নাকাটি করেছে এবং নাওয়া খাওয়া পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছে।’
সুজাত আলী, আইয়ুব খান, স্বপনসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘একজন খেলোয়াড়ের প্রতি মানুষের এমন ভালোবাসা সত্যিই বিরল। এমন ঘটনা এর আগে কখনো দেখেননি তারা। তাদের চাওয়া আগামী কাতার বিশ্বকাপে যেন শামীমের দল আর্জেন্টিনা জয়লাভ করে।’
গাইবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান মাকছুদুর রহমান আনছারী বলেন, চর দাদনা পূর্ব পাড়া গ্রামে আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে একটি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সেই ঘর পরিদর্শনে যাচ্ছি।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক ও বর্তমান জেলা অনূর্ধ্ব-১৯ বঙ্গমাতা গোল্ডকাপের প্রশিক্ষক সুমন আলী বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি শুনেছি। সত্যি কথা বলতে এ দেশে যুবসমাজ ফুটবল মানেই আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকেই বুঝে থাকে। শামীমের সঙ্গে আমার সরাসরি দেখা না হলেও ফুটবলের প্রতি তার ভালোবাসাকে সাধুবাদ জানাই।
