নিজস্ব প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়কে চলন্ত বাসে এক নারী যাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে বাসচালক, চালকের সহকারী ও কন্ট্রাকটরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার দুপুরে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ.ন.ম. ইলিয়াস এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার নান্দেরাই গ্রামের আব্দুর রবের ছেলে বাসচালক আলতাফ হোসেন (২৫), সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে চালকের সহকারী মো. রাব্বি (২১) এবং ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চাঁদর হাট বাজারের চুন্নু মাতাব্বরের ছেলে কন্ট্রাকটর সাগর ওরফে সজিব মাতাব্বর (২৪)। তাঁরা সাভার পরিবহনের বাসের কর্মী ছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৪ জানুয়ারি রাত পৌনে ১২টার দিকে ওই নারী ঢাকার গাবতলী থেকে আশুলিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে সাভার পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। পথে বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে অন্য যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর বাসে তিনি একা হয়ে পড়েন। এ সময় চলন্ত বাসে তাঁকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁর কানের দুল, নগদ ৩৬ হাজার টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
পরে বাসটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলাচল করতে থাকে। পরদিন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া আন্ডারপাস এলাকায় বাসটি থামানো হলে ওই নারী সেখানে টহলরত হাইওয়ে পুলিশের কাছে ঘটনার বিবরণ দেন। পরে পুলিশ বাসসহ তিনজনকে আটক করে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
ঘটনার দিনই ওই নারী বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ভিক্টর ব্যানার্জী ২৯ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলায় ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্তদের টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয় বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
