আধুনিক প্রযুক্তিতে কৃষি উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: আইসিটি মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি:কৃষিকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক ও টেকসই খাতে রূপান্তর করতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার কিসামত এলাকায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত প্রযুক্তি গ্রামের কার্যক্রম পরিদর্শনকালে কৃষক সমাবেশ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আগাম জাতের আমন ধান কাটার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন এবং রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপণ করেন।

মন্ত্রী বলেন, কৃষিকে সনাতনী ও শ্রমনির্ভর ব্যবস্থা থেকে বের করে গবেষণা, উদ্ভাবন, আধুনিক প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। কৃষি ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে কৃষক নিবন্ধন, কৃষক ডেটাবেজ, ডিজিটাল কৃষিসেবা, মোবাইলভিত্তিক আবহাওয়া ও বাজারসংক্রান্ত তথ্য এবং কৃষি পরামর্শসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষির আধুনিকায়নে রিমোট সেন্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), ড্রোন, জিআইএস, স্যাটেলাইট তথ্য ও বিগ ডেটার ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসলের স্বাস্থ্য ও ফলন পর্যবেক্ষণ, রোগবালাই শনাক্তকরণ এবং সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।

কৃষকদের সরকারি সেবা সহজে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, কৃষকদের ডিজিটাল ডেটাবেজের আওতায় আনা এবং তাঁদের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে সারা দেশের প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের গবেষণার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, নতুন ধানের জাত উদ্ভাবন এবং কৃষকের দোরগোড়ায় আধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। বিনা মূল্যে বীজ, সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়াতেও সরকার কৃষকদের পাশে রয়েছে।

কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, উৎপাদন ব্যয় কমানো, শ্রমিক সংকট মোকাবিলা এবং কৃষিকে লাভজনক করতে আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কৃষি খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

অনুষ্ঠানে ব্রির এলএসটিডি প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ধান গবেষণার ছয়টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে গবেষণা কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণ করা হচ্ছে। এতে বিভিন্ন অঞ্চলের মাটি, আবহাওয়া ও কৃষি পরিবেশের উপযোগী ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান সুরুজ, ব্রির মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. ইব্রাহিম, সহকারী প্রকল্প পরিচালক ও সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আফসানা আনসারী, ব্রির টাঙ্গাইল আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ড. মসউদ ইকবাল, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আদিবা আফরিন রিম, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে মন্ত্রী ধনবাড়ী আসিয়া হাসান আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে প্রতিভা বৃত্তি প্রকল্পের গুণীজন সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। শ্রী রনজিত চন্দ্র সাহার পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি তরুণ সমাজকে নেশা ও মাদক থেকে দূরে রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, নৈতিকতা ও শিক্ষার প্রতি মনোযোগী হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এই ধরনের আরও খবর

সর্বশেষ খবর