Homeজাতীয়জাতীয় জাদুঘরে চার দিনব্যাপী আয়োজনে তুলে ধরা হলো টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্প

জাতীয় জাদুঘরে চার দিনব্যাপী আয়োজনে তুলে ধরা হলো টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্প

১৯ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর জাতীয় জাদুঘরে প্রদর্শনী ও তাঁত মেলায় অংশ নেন টাঙ্গাইলের তাঁতি ও উদ্যোক্তারা

নিজস্ব প্রতিনিধি: টাঙ্গাইল শাড়ি ও এর বয়নশিল্প বাংলাদেশের শত বছরের ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য উদ্‌যাপন, সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে অনুষ্ঠিত হয়েছে চার দিনব্যাপী বিশেষ প্রদর্শনী ও তাঁত মেলা।

‘হেরিটেজ, হারমনি, হ্যান্ডলুম: সেলিব্রেটিং দ্য লিগ্যাসি অব টাঙ্গাইল লুম’ শীর্ষক এ আয়োজন ১৯ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড যৌথভাবে এ আয়োজন করে।

শনিবার উদ্বোধনের পর জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনী গ্যালারিতে টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্প নিয়ে তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি গ্যালারিসংলগ্ন লবিতে বসে ঐতিহ্যবাহী তাঁত শাড়ির মেলা। এতে টাঙ্গাইল থেকে আসা তাঁতি ও উদ্যোক্তারা অংশ নেন।

পাথরাইল থেকে মেলায় অংশ নেন স্মার্ট তাঁতির স্বত্বাধিকারী সুবর্ণা রায়। তিনি কটন, হাফসিল্ক, জামদানিসহ নিজেদের বোনা বিভিন্ন ধরনের শাড়ি নিয়ে মেলায় অংশ নেন। পাশাপাশি ছিল গামছা, ওড়নাসহ বিভিন্ন পণ্য। শাড়িগুলোর দাম ছিল ৫০০ টাকা থেকে ১০-১২ হাজার টাকা পর্যন্ত।

সুবর্ণা রায় জানান, মেলায় দর্শনার্থীদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। প্রথম দিন মেলা শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ৪০ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হয়। চার দিনের মেলায় প্রত্যাশার চেয়েও বেশি লাভ হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মেলায় অংশ নেন পাথরাইলের হৃদি টেক্সটাইল অ্যান্ড টাঙ্গাইল শাড়ির কর্ণধার মোহাম্মদ রাসেল মিয়া। তিনি সুতি ও জামদানি শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ওয়ান পিস ও ওড়নাসহ বিভিন্ন পোশাক নিয়ে অংশ নেন। তাঁর প্রত্যাশা, টাঙ্গাইলের শাড়ি ও অন্যান্য পোশাক তরুণ প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছে যাবে।

মেলায় দর্শনার্থীরা টাঙ্গাইলের বিভিন্ন ধরনের তাঁত শাড়ি দেখার পাশাপাশি এই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঐতিহ্য ও কারুশিল্প সম্পর্কে জানার সুযোগ পান।

আয়োজকদের ভাষ্য, টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্প শুধু পণ্য উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্থানীয় ইতিহাস, সংস্কৃতি, কারিগরি জ্ঞান এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা বয়নপ্রথা। ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর এই ঐতিহ্যকে কীভাবে টেকসইভাবে সংরক্ষণ করা যায়, সেটিও আয়োজনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।

RELATED ARTICLES

Most Popular