Homeরাজনীতি‘আ.লীগের অস্থিরতা রাজনৈতিক-প্রশাসনিকভাবে মোকাবিলা করা হবে’: এ্যানি

‘আ.লীগের অস্থিরতা রাজনৈতিক-প্রশাসনিকভাবে মোকাবিলা করা হবে’: এ্যানি

চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে মোকাবিলা করা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটা নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল। তারা বিভিন্ন জায়গায় ঝটিকা মিছিল করে সমাজে একটা অস্থিরতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। কোনোভাবেই যেন এই ধরনের অস্থিরতার মাধ্যমে একটা অরাজক, অস্থিরতা, নৈরাজ্য, সন্ত্রাস না করতে পারে। একদিকে রাজনৈতিকভাবে আমরা মোকাবেলা করব। আরেকদিকে আইনগত যে ব্যবস্থাটুকু নেওয়া দরকার, জেলার আইনশৃঙ্খলা যারা দায়িত্বে রয়েছেন তারা সজাগ থাকবেন, সতর্ক থাকবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এইজন্যই আজকে আমাদের এই মিটিংটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। জেলার আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় কমিটির মিটিং। কোথায় চুরি, কোথায় কোথায় রাহাজানি, কোথায় ডাকাতি, কোথায় ছিনতাই, কোথায় অবৈধ অস্ত্র, কোথায় মাদক-সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আমরা প্রশাসন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধি যারা রয়েছেন, সবাইকে নিয়ে আজকে বিশদ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী দিনে সুন্দরভাবে এই জেলাকে আমরা যেন সমন্বিত রাখতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা খুব শক্তভাবে এই সকল পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করছি এবং আজকে দ্বিতীয়বারের মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষার যে কমিটির সমন্বয় কমিটির মিটিং, সেটা আমরা নিয়ে এসে সেটা আমরা করেছি। এর মাধ্যমে এই জেলার, এই শহরের সাধারণ মানুষ যেন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে, একটা স্বাভাবিক চলাফেরা থাকে- সকল কিছুর দিক চিন্তা করে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি এবং সে অনুযায়ী আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি এবং করব।’

চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র, মাদক, পাহাড় কাটা ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান পানিসম্পদ মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে কিছু কঠিন কঠিন পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। জনস্বার্থে, জনগণের প্রয়োজনে আরো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক নির্মূল, পাহাড় কাটা সংক্রান্ত, বালু উত্তোলন সংক্রান্ত আরো কিছু বিশেষ বিশেষ কাজ রয়েছে, যেগুলো অনেক সময় আমরা লক্ষ্য করেছি, যার কারণে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়। সেই সেই দিকেও আমরা বিশদ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকটা বিষয়কে প্রায়োরিটি দিচ্ছি। প্রায়োরিটি বেসিস, সবদিক বিবেচনা করে যেখানে যেটা দরকার, তাৎক্ষণিকভাবে সেটাকে এড্রেস করা, সমন্বয় করা, সমাধান করা- সেই দিকে আমাদের বিশেষ নজর থাকবে।’

চট্টগ্রামের গুরুত্ব তুলে ধরে এ্যানি বলেন, ‘সকল আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে একটা সুন্দর চট্টগ্রাম নগরী, চট্টগ্রাম জেলা সুন্দরভাবে পরিচালিত হবে। যেহেতু এই জেলাটি ঐতিহ্যবাহী একটা ব্যবসায়িক অঞ্চল, অর্থনৈতিক অঞ্চল, বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক সিটি অর্থনৈতিক অঞ্চল৷ আমরা সরকারের পক্ষ থেকে যা যা প্রয়োজন, সকল দিক, সকল ক্ষেত্র, পারিপার্শ্বিকতা সবাইকে নিয়ে আমরা এই পদক্ষেপগুলো এমনভাবে গ্রহণ করব, যেন আমাদের এই সিটিতে, এই জেলায় মানুষ খুব স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারেন এবং তারা সুন্দরভাবে স্বাভাবিক জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে চলাফেরা করতে পারেন।’

আগামী দিনে চট্টগ্রামের উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আজকের এই মিটিংয়ে ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রী উনার নির্দেশনায় চট্টগ্রামকে গুরুত্ব দিয়ে যে সকল উন্নয়ন কাজ সমন্বয় করা দরকার, সেই দিকেও আমরা বিশেষভাবে নজর দিব—এই প্রত্যাশাও আমরা ব্যক্ত করছি।

সাম্প্রতিক সময়ে নতুন আইন প্রণয়ন ও আইন সংশোধনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে এ্যানি বলেন, ‘খুব রিসেন্টলি দেখেছেন, পার্লামেন্টেও আপনারা দেখেছেন, অনেক ব্যাপারে নতুন আইন হয়েছে, আইন সংশোধন হয়েছে। ১৭ বছরের ট্রেন্ড ইচ্ছা করলে ১৭ দিনে অথবা ১৭ মাসেই পুরাপুরিভাবে শেষ করে দেওয়া যাবে- এই কথা আমি বলব না। তবে আমাদের মহৎ উদ্যোগ রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা খুব দায়িত্বশীলতার সহিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সব পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করে দেশের আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং বিশেষ করে এই চট্টগ্রাম জেলার, চট্টগ্রাম সিটির আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নের স্বার্থে আমরা কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। ইনশাআল্লাহ এই এলাকার মানুষ সেখান থেকে তার রেজাল্ট পাবেন। আমরা আশা করছি।

RELATED ARTICLES

Most Popular