নিজস্ব প্রতিনিধি: টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় টানা কয়েকদিনের কর্মবিরতি ও আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। হাসপাতাল প্রশাসন ও মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে নিরাপত্তাসহ চারটি দাবি মেনে নেওয়া এবং হাসপাতালের দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান খসড়া পরিকল্পনা তৈরির পর রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন তারা।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনায় পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, হাসপাতাল প্রশাসনের পাশাপাশি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর-গোপালপুর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টুও অংশ নেন। আন্দোলনরত চিকিৎসকদের দাবি ও হাসপাতালের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ায় তার ভূমিকা ছিল বলে জানান ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
রোববার দুপুর ১২টার পর হাসপাতাল প্রশাসন, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে হাসপাতালে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে একটি খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করা হয়।
ইন্টার্ন চিকিৎসক তাসনিম হোসাইন জানান, পাঁচ দফা দাবির মধ্যে হামলার ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। তবে ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ও মিডলেভেল চিকিৎসক পদায়ন, দর্শনার্থী প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ কর্মস্থলের জন্য আনসারদের ডিউটি রোস্টারসহ চারটি দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মেনে নিয়েছে।
তিনি জানান, হামলার পর বুধবার থেকে রোববার পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। রোববারও অবস্থান ধর্মঘট ও বহির্বিভাগের সেবা বন্ধ রাখার কর্মসূচি ছিল। তবে জরুরি বিভাগ চালু ছিল। আন্দোলন প্রত্যাহার করা হলেও রোববার সারাদিন কর্মবিরতি বহাল থাকবে এবং সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কাজে যোগ দেবেন।
এর আগে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. মো. আল-আমিন সিদ্দিকীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুছ টাঙ্গাইল সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে মোছাদ্দেক আলী খানসুর তুহিন, পলি খানসুর ও খন্দকার বদরুল রহমান বাবুলসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। হামলার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।
