বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৩
Homeটাঙ্গাইল জেলাবিএনপি-জামায়াতের যুগপৎ আন্দোলন হাস্যকর: কৃষিমন্ত্রী

বিএনপি-জামায়াতের যুগপৎ আন্দোলন হাস্যকর: কৃষিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বিএনপির ১০ দফা নতুন কিছু নয়। পুরনো ভাঙা রেকর্ড তারা বাজিয়েই চলেছে । ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকেই তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাই, নিরপেক্ষ সরকার চাই, সরকারের পতন চাইসহ নানা দফা-দাবি জানিয়ে আসছে। বিএনপি কী চাইল আর কী চাইল না- সে অনুযায়ী নির্বাচন হবে না, দেশ চলবে না। সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সংবিধান অনুযায়ী দেশ চলবে।

বিএনপি-জামায়াতের যুগপৎ আন্দোলনকে হাস্যকর বলে অভিহিত করে মন্ত্রী বলেন, এরা একই বৃন্তের ফুল। যত কথাই শোনা যাক, বিএনপি-জামায়াত পরস্পরকে কখনো ছেড়ে যাবে না। বিএনপির সংসদ সদস্যদের পদত্যাগে সংসদের কিছু হবে না। সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি রয়েছে। সংসদ যথা নিয়মে চলবে। রবিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল পৌর শহরে আয়োজিত টাঙ্গাইল হানাদারমুক্ত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি যোগদানকালে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ড. রাজ্জাক বলেন, বিদেশিদের ও স্বাধীনতা বিরোধীদের উস্কানিতে বিএনপি মনে করে, সন্ত্রাস করে, অরাজকতা করে সরকারের পতন ঘটাবে। এটি কোন দিনই হবে না। ২০১৩ সালে তারা পারেনি, ২০১৪ সালে নির্বাচন হয়েছে। ২০১৫ সালে একটানা ৯০ দিন হরতাল দিয়ে ছিল বিএনপি, তখনও তারা সফল হয়নি। ২০২২-২৩ সালেও তারা সফল হবে না। কাজেই বিএনপি আন্দোলন করে কখনো সরকারের পতন ঘটাতে পারবে না। বর্তমান সরকার একটি ন্যায়সঙ্গত, জনগণের নির্বাচিত সাংবিধানিক সরকার। মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবে।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিএনপির নেতারা বিভিন্ন সময় আন্দোলনের হুমকি দিলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেন না। ঈদের পর আন্দোলন করবেন, আবার বলেন- পূজার পর আন্দোলন করবেন? মুল কথা তারা কখন আন্দোলন করবেন তা তারা নিজেরাও জানেন না। বিএনপি কি চাইল, কি চাইল না, সেই অনুযায়ী দেশ চলবে না। দেশ চলবে পবিত্র সংবিধান অনুযায়ী। সংবিধানের বাইরে যাওয়ার জননেত্রী শেখ হাসিনারও কোন সুযোগ বা ক্ষমতা নেই।

মন্ত্রী বলেন, ইতোপূর্বে বিএনপি ছাড়াও সংসদ পরিচালিত হয়েছে। বর্তমান সংসদে বিএনপি বিরোধী দল নয়, জাতীয় পার্টি বিরোধী দল। কাজেই তারা সংসদে আসল কি গেল তাতে কিছু যায় আসে না। সাত এমপি না থাকলে এক বছরে দেশ ভেঙে পড়বে না। দেশ এইভাবে এগিয়ে যাবে। এমনি উপ-নির্বাচনেও তারা আসে না। তাহলে আমরা তাদের কিভাবে সহযোগিতা করব। ২০১৮ সালের আগে তারা সংসদে ছিল না। এটা খুবই দুঃখ জনক।

কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, একটি দেশের রাজনীতিতে বিরোধী দল খুবই গুরত্বপূর্ণ। যেমন কেচির দুটি বাহু থাকে। হাটতে দুটো পা লাগে। তেমনি সংসদেও দুটি দল লাগে। তাই বিরোধী দল থাকা দরকার। সেখানে কেউ যদি না থাকে তাহলে আমাদের কিছু করার নেই। তার পরেও সংসদে জাতীয় পার্টি রয়েছে। ওয়াকার্স পার্টি রয়েছে। বর্তমানে জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে। বিরোধী দলের নেতা তো বিএনপি নেতারা নয়। সংসদে তাদের ৫-৭ জনের একটা গ্রুপ ছিল। সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ। উপনেতা হচ্ছেন জিএম কাদের। তাতে কোন সমস্যা হওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, বিএনপি আন্দোলনের নামে বাসে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারে। রেল লাইন উপড়ে ফেলে। আন্দোলনের নামে সাধারণ মানুষকে হত্যা করে। আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ ভোটের মাধ্যমে তার জবাব দিবে। আওয়ামী লীগের শক্তি দেশের সাধারণ জনগণ। সাধারণ মানুষই আওয়ামী লীগের মূল হাতিয়ার। তিনি আরও বলেন, ১৬ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলের মানুষের জন্য খুব আনন্দ ও গৌরবের। কারণ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ২৬ মার্চ আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। দীর্ঘদিন যুদ্ধের পর ১১ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল হানাদারমুক্ত হয়। ১৬ ডিসেম্বর দেশ শত্রু ও হানাদার মুক্ত হয়ে বিজয় আসে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি জোয়াহের) এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. ছানোয়ার হোসেন এমপি প্রমুখ। পরে কৃষিমন্ত্রী ডক্টর মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি জেলা আওয়ামী লীগ ও পৌরসভার উদ্যোগে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌরউদ্যানে আয়োজিত টাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এর আগে টাঙ্গাইল হানাদার মুক্ত দিবসের উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক।

নিউজ টাঙ্গাইলের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন - "নিউজ টাঙ্গাইল"র ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

- Advertisement -
- Advertisement -