নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: দরজায় কড়া নাড়ছে শীত। আর এই শীতে উষ্ণতা দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার বাথুলী সাদী এলাকার শাল চাদর প্রস্তুতকারী তাঁত মালিক ও শ্রমিকরা। তাঁত মালিকদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন না তারা। তবে বর্তমানে স্বল্প পরিসরে প্রান্তিক তাঁত মালিকদের সহায়তা করা হলেও আগামীতে বড় আকারের ঋণ সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তাঁত বোর্ডের কর্মকর্তা।
সূর্যাস্তের সাথে সাথেই মৃদু শীত অনুভূত হচ্ছে সারা দেশেই। আর শীতে মানুষের শরীরে উষ্ণতা দিতে আগাম প্রস্তুতি নিয়েছেন চাদর প্রস্তুতকারী তাঁতিরা। মনের মাধুরী মিশিয়ে মনিপুরি,পাট্টা, হাই চয়েজ,নয়ন তারা, ফ্লক প্রিন্টসহ প্রায় ২৫ রকম ডিজাইনের চাদর তৈরি করছেন তারা। ঠাণ্ডা যতো বেশি ও দীর্ঘ হবে ব্যবসা ততোই রমরমা হবে। তাঁত মালিকদের অভিযোগ, চাদর তৈরিতে অনেক বেশি অর্থ বিনিয়োগ করতে হলেও সরকারি ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন না তারা। তাঁত মালিকরা জানান, আমরা যে ইনভেস্ট করি, তাতে তাঁতিদের বেতন দিয়ে যে লভ্যাংশ পাচ্ছি তা খুবই কম। সরকার আমাদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করলে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবো।
তাঁত মালিক তাঁত শ্রমিকরা জানান, বর্তমানে কাজের চাপ অনেক বেশি থাকলেও, বছরের বেশিরভাগ সময় তাদের অলসভাবে কাটাতে হয়। শ্রমিক ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, টাঙ্গাইল তাঁত শিল্পের জন্য বিখ্যাত হলেও এ শিল্পের প্রতি কোন নজর দিচ্ছেনা সরকার। ফলে এই শিল্প টিকিয়ে রাখা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
টাঙ্গাইল চেম্বার অফ কমার্সের সাধারণ সম্পাদক খান মোহাম্মদ শুভ বলেন, ঋণের শর্ত গুলো যদি শিথিল করা হয়। এবং স্বল্প সুদে যাতে ঋণ দেওয়া হয়। এবং তাঁতিদের পুণ্যগুলো যাতে তারা সহজে বিপণন করতে পারে সেটার দিকেও নজর দিতে হবে। তবে তাঁত বোর্ডের কর্মকর্তা, বড় ধরনের ঋণ সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা আশ্বাস দিয়েছেন টাঙ্গাইলের বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড বেসিক সেন্টার লিয়াজোঁ অফিসার মো. রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, তাঁতিরা রপ্তানির বিষয়ে সরাসরি তাঁত বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, সে বিষয়ে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলার বাসাইল,দেলদুয়ার ও মির্জাপুর উপজেলায় চাদর তৈরির তাঁত রয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার। আর এতে কাজ করছেন প্রায় ১১ হাজার শ্রমিক।
