নিজস্ব প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলে চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার অন্যতম আসামী টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সরকার দলীয় সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানাকে আদালতে উপস্থিতি স্বাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ পিছিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক রাশেদ কবীর আগামী (৯ মে) এই মামলার স্বাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য করেন। আদালত পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম টিনিউজকে জানান, বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) আদালত কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার স্বাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। অসুস্থ্যতা জনিত কারণে এই হত্যা মামলার অন্যতম আসামী সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানাকে টাঙ্গাইলের বিচারিক আদালতে উপস্থিত করা হয়নি।

এছাড়া এ মামলায় জামিনে থাকা অপর তিন আসামী মাসুদুর রহমান মাসুদ, নাসির উদ্দিন নুরু ও ফরিদ আহমেদ আদালতে হাজিরা দেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত আদালতে মোট ১৪জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত হয়েছে। পুলিশ এ মামলায় ৩২জনকে স্বাক্ষী করেছে। দীর্ঘ ২২ মাস পলাতক থাকার পর সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা বিগত ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করেন। সে সময় আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, বিগত ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমদ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলাটি টাঙ্গাইল মডেল থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে এবং বিগত ২০১৬ সালের (৩ ফেব্রুয়ারি) সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা (তখন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের এমপি ছিলেন) ও তার তিনভাইসহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

তদন্ত চলাকালে ২০১৪ সালের (১১ আগস্ট) সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানার ঘনিষ্ঠ কর্মী আনিসুর রহমান রাজা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে তিনদফায় মোট ১৫ দিন রিমান্ড শেষে ওই বছরের (২৭ আগস্ট) টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদত হোসেনের নিকট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। অপর আসামী মোহাম্মদ আলী গ্রেপ্তার হন একই বছরের (২৪ আগস্ট)। তিনি দশদিনের রিমান্ড শেষে (৫ সেপ্টেম্বর) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শেখ নাজমুন নাহারের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

উভয় আসামীর জবানবন্দিতে ফারুক আহমদ হত্যাকান্ডে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক এই এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার ছোট ভাই ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন, পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুল রহমান খান মুক্তি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করলে এই হত্যাকান্ডের সাথে খান পরিবারের চার ভাইয়ের জড়িত থাকার কথা প্রথম প্রকাশ পায়।

এ হত্যাকান্ডের পরিকল্পনার সঙ্গে আমানুর রহমান খান রানার অপর ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তদানিন্তন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি ও টাঙ্গাইল জেলা বণিক সমিতির সভাপতি জাহিদুর রহমান খান কাকন যুক্ত বলে মোহাম্মদ আলী তার জবানবন্দিতে প্রকাশ করেন। গত ২০১৭ সালের (৬ সেপ্টেম্বর) আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। বর্তমানে মামলার স্বাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসন থেকে সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানাকে বাদ দিয়ে তার পিতা আতাউর রহমান খানকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। আতাউর রহমান খান দলের মনোনয়ন পেয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ী হন।

এই ধরনের আরও খবর

সর্বশেষ খবর

PinUp Nedir ve Nasıl Çalışır? Kapsamlı Bir Rehber

How to Complete Your Boo Casino Sign Up in New Zealand

How to Register and Start Playing at Boo Casino in New Zealand

Boo Casino NZ Review: Is It Worth Your Time?