দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২০ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। শনিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রকাশিত নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম সন্দেহে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৩ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ১০১ জন। আর হাম সন্দেহে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৫২ জন।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২০ জন। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাম সংক্রমণের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর নিয়মিতভাবে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত রোগী এবং মৃত্যুর পরিসংখ্যান প্রকাশ করছে। বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে আক্রান্তদের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে লালচে দানা ওঠা এ রোগের প্রধান উপসর্গ। শিশুদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ গুরুতর হলে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে এবং তা প্রাণঘাতীও হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চের শেষ দিকে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর সরকার টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করে। প্রথম পর্যায়ে ৫ এপ্রিল দেশের ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়।
এরপর দ্বিতীয় ধাপে ১২ এপ্রিল ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ—এই চার সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়। তৃতীয় ধাপে ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে একযোগে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচিটি এখনও চলমান রয়েছে।
তবে সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে হাম প্রতিরোধে নতুন করে ব্যাপক টিকা ক্যাম্পেইন শুরু করার প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। নতুন এই কর্মসূচির মাধ্যমে হাম প্রতিরোধে টিকাদান আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
