নিজস্ব প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মধুপুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের বেপরোয়া চলাচলে তীব্র যানজট এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যত্রতত্র পার্কিং, সড়কের ওপর যাত্রী ওঠানামা এবং অদক্ষ চালকদের ট্রাফিক আইন না মানার কারণে পুরো পৌর শহরজুড়ে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন দূরপাল্লার যাত্রী, চাকরিজীবী ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুপুর পৌর অংশ অনেকটাই অটোরিকশা ও ইজিবাইকের দখলে চলে গেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রধান সড়কে নিয়ম না মেনে যাত্রী ওঠানামা করায় ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। বিশেষ করে শহরের মালাউড়ি থেকে মধুপুর সরকারি কলেজ এবং অপরদিকে নয়াপাড়া পর্যন্ত যানজট তীব্র আকার ধারণ করে।
বাসস্ট্যান্ড এলাকা, আনারস চত্বর, কাঁচাবাজার ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ প্রাঙ্গণে নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড না থাকায় চালকেরা প্রধান সড়কের ওপরই যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখেন। এতে ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও জামালপুরগামী দূরপাল্লার যানবাহন দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হয়।
টাঙ্গাইল জেলা পরিবেশ রক্ষা সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক লিয়াকত হোসেন জনি বলেন, ‘মধুপুর শহরের ওপর দিয়ে দেশের প্রায় ২৮টি জেলার যানবাহন চলাচল করে। অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী ও শিক্ষার্থীরা। দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান দরকার।’
মধুপুর পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কবির হোসেন বলেন, পৌরসভা ও প্রশাসন মাঝেমধ্যে অবৈধ অটোরিকশার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও কয়েক দিন পর পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। সুনির্দিষ্ট সমাধান না হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।’
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুধু সাময়িক অভিযান পরিচালনা করে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। মধুপুর শহরকে যানজটমুক্ত করতে অটোরিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দ্রুত নির্দিষ্ট পার্কিং জোন ও স্ট্যান্ডের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
