নিজস্ব প্রতিবেদক:টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ধর্ষণের বিচার চেয়ে অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে টানা চার দিন অনশন করা বিধবা শাহিদা বেগমকে জাল জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অভিযুক্ত আরশেদ আলীর সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার কলেজ রোডে নিকাহ রেজিস্ট্রার মাওলানা লোকমান হোসেনের কার্যালয়ে এ বিয়ে সম্পন্ন হয় বলে জানা গেছে।
শাহিদার স্বজনদের অভিযোগ, তাকে জোর করে ইজিবাইকে তুলে নিয়ে ঘাটাইলের একটি নিকাহ রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে নিয়ে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়েতে আরশেদ আলীর কনিষ্ঠ ছেলে জুয়েল হোসেন ও তার দুই আত্মীয় সাক্ষী ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
শাহিদা বেগম গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের দিগলআটা গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী। তার ছেলে হেলাল মিয়ার অভিযোগ, গত রবিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে একই গ্রামের কবিরাজ আরশেদ আলী ঝাড়ফুঁক দেওয়ার কথা বলে তার মাকে বাড়ির বাইরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় শাহিদার ডাক-চিৎকার শুনে তার নাতি রাসেল ঘটনাস্থলে গিয়ে আরশেদ আলীকে হাতেনাতে আটক করেন বলে দাবি পরিবারের।
তাদের অভিযোগ, পরে আরশেদ আলীর ছেলে ও নাতিরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এরপর গ্রামের মাতব্বর মজিবর রহমান ও জাবেদ আলী বিষয়টি গ্রাম্য সালিশে মীমাংসার আশ্বাস দেন। তবে পরবর্তীতে কোনো মীমাংসা না হওয়ায় শাহিদা বেগম বিচারের দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকে আরশেদ আলীর বাড়ির সামনে অনশন শুরু করেন।
স্থানীয় সংবাদকর্মীদের দাবি, গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত শাহিদা বেগমকে সেখানে অনশনরত অবস্থায় দেখা যায়।
গ্রামের বাসিন্দা হাফিজুর রহমানের অভিযোগ, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে আরশেদ আলী, তার ছেলে জুয়েল হোসেন ও কয়েকজন আত্মীয় শাহিদা বেগমকে জোর করে একটি ইজিবাইকে তুলে নিয়ে যান। কোথায় নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তারা ঘাটাইলের এক নিকাহ রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে দুজনের বিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান।
এদিকে শাহিদা বেগমকে আরশেদ আলীর বাড়িতে না পেয়ে এবং তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে তার ছেলে হেলাল মিয়া ও নাতি নাজমুল হাসান, শিপন ও রাসেল গোপালপুর থানায় যান। নাজমুলের অভিযোগ, তারা শাহিদার ধর্ষণের অভিযোগ ও তাকে অনশনরত অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে চাইলেও থানার সেকেন্ড অফিসার চন্দন বাবু তাদের অভিযোগ গ্রহণ করেননি। বরং তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।
নাজমুলের দাবি, রাত সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তাদের সেখানে রাখা হয়। পরে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার পর তাদের জানানো হয়, ঘাটাইলের একটি নিকাহ রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে শাহিদা বেগমের বিয়ে হয়ে গেছে। সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার পরামর্শ দিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
