নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে আন্ডাররেটেড বোলার বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ওয়ানডে অভিষেকে বিশ্বের প্রথম বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করলেও সময়ের বিবর্তনে তিনি বনে গিয়েছেন টেস্ট স্পেশালিস্ট। অভিজাত এ ফরম্যটে নীরবে-নিভৃতে নিজের কাজটা করে গেলেও কখনো মেলেনি স্টার-সুপারস্টারের তকমা।
এতে থোড়াই কেয়ার নাটোরের ২৬ বছর বয়সী এ তরুণের। নিজের মতোই করে যান নিজের কাজটা। চট্টগ্রাম টেস্টেও দেখিয়েছেন একই উদাহরণ। প্রথমে ব্যাট হাতে ৩৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে নিয়ে গেছেন ভালো অবস্থানে। পরে দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে ৬ উইকেট নিয়ে নিশ্চিত করেছেন ৬৪ রানের জয়।
তবু ম্যাচ সেরার পুরস্কার কিন্তু তাইজুল পাননি। প্রথম ইনিংসে রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরির কারণে চট্টগ্রাম টেস্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন কক্সবাজারের ছেলে মুমিনুল হক। আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না পেলেও দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের বাহবা ঠিকই কুড়িয়েছেন তাইজুল।
বাঁ-হাতি এ স্পিনারের পরিশ্রমে মুগ্ধ টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তিনি বলেন, ‘ওর (তাইজুল) সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে, নিজের বোলিং নিয়ে ও অসম্ভব রকম পরিশ্রম করে। দেখেন প্রথম ইনিংসে একটা উইকেট পেয়েছে, তবু ওর বোলিংয়ের জন্য আমরা ড্রেসিংরুমে ওর অনেক প্রশংসা করেছি। সবাই বলেছি যে, প্রথম ইনিংসে ও-ই আমাদের সেরা বোলার ছিল, যদিও উইকেট পেয়েছে একটা।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘অনেক সময় এমন হয় যে, একটা বোলার খুব ভালো বোলিং করছে কিন্তু উইকেট পাচ্ছে না। অন্য দিকে একটা বোলারের একটা-দুইটা উইকেট নেয়ার মতো বল হয়ে গেলে সেটাতেই উইকেট পেয়ে যায়। আমরা ওই জিনিসগুলো জানি, তাই আমরা ড্রেসিং রুমে ছোট ছোট ব্যাপারের প্রশংসা করি। আমি নিশ্চিত এটা আমাদের টিম ম্যানেজমেন্ট আর খেলোয়াড়রা খুব ভালো করে বুঝতে পারে। ও অসাধারণ ভালো বোলিং করছে। আমি চাইব যে, সামনে একটা টেস্ট আছে সেটাতেও যেন ও এই ভাবেই বল করতে পারে। শুধু এক ইনিংস না দুই ইনিংসেই যেন পাঁচটা করে উইকেট পায়।’
