এম সাইফুল ইসলাম শাফলু : টাঙ্গাইলের সখীপুরে হালিমা আক্তার নামের এক জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার্থীর বাল্য বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই দফায় স্থানীয় প্রশাসন ওই বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেও পরে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গোপনে ওই ছাত্রীর নোটারী পাবলিক’র মাধ্যমে এ বাল্য বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের নয়ারচালা গ্রামে এ আলোচিত বাল্য বিয়ের ঘটনা ঘটে। খোঁজ নিয়ে
জানা যায়, বাল্যবিয়ের শিকার স্কুল ছাত্রী হালিমা আক্তারের সমাপনীর সনদ ও জেএসসি পরীক্ষার রেজিষ্টেশন কার্ডে জন্ম তারিখ ০৩ ডিসেম্বর ২০০৫ খ্রি.। ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক জন্ম সনদে তার জন্ম ০৩ ডিসেম্বর ২০০৪ খ্রি.। অবশেষে বাল্যবিয়ে থেকে বাচঁতে টাঙ্গাইল নোটারীর পাবলিক’র (বিবাহের ঘোষণাপত্র) সাথে সংযুক্ত করা এক জন্ম সনদে দেখা গেছে ওই ছাত্রীর জন্ম তারিখ ০৩ ডিসেম্বর ২০০০ খ্রি.।
একাধিক জন্ম সদন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব বাবুল আহমেদ সাগর বলেন, অনলাইনে তথ্য অনুযায়ী ওই ছাত্রীর জন্ম তারিখ ০৩.১২.২০০৪ খ্রি.। অন্যগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করেছে তারাই ভালো জানেন।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বাল্য বিয়ে দু দফায় ভেঙ্গে দেওয়ার কথা স্বীকার করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. কিসমত আলী মিয়া বলেন, গোপনে অন্যত্র নিয়ে পূণরায় এ বিয়ে সম্পন্ন করেছেন তাদের পরিবার।
ওই ছাত্রীর অভিভাবকের মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এসএম কামরুল হাসান বাল্যবিয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের অসচেতনাকে দায়ী করেন।
উপজেলা নিকাহ রেজিস্টার সমিতির সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শফিউল ইসলাম কাজী বাদল বলেন, সখীপুরের নিকাহ রেজিস্টাররা বাল্য বিয়ে পড়ায়না। অভিনব কায়দায় নোটারীর পাবলিক মধ্যমে এসব বাল্য বিয়ে করানো হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছেন তিনি।
সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুর রহমান লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
