বর্ষা ছাড়া পানি দেখা যায় না করটিয়ার লৌহজং নদীতে

নিউজ টাঙ্গাইল ডেস্ক: সময়ের বিবর্তনে টাঙ্গাইলের করটিয়ার লৌহজং নদী এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। নদীর উৎসমুখ থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন এলাকা দখল হওয়ায় সারা বছর পানিশূন্য থাকে নদীটি। শুধু ভরা বর্ষা শুরু হলেই লৌজংয়ে অল্প পরিমাণে পানি দেখা যায়। নদী ঘেঁষা বিভিন্ন বাজার ও বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে ভরাট হয়ে যাচ্ছে এ নদী। সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ধলেশ্বরী নদীর শাখা লৌহজং নদীটি টাঙ্গাইল পৌরসভার বিশ্বাস বেতকা হয়ে সদর উপজেলার করটিয়া হাট ও বাজারের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাসাইল উপজেলার দিকে চলে গেছে। লৌহজং নদীর করটিয়া লোহার ব্রিজের দুই পাশে ময়লা আবর্জনা ফেলে ভাগারে পরিণত করা হয়েছে। এছাড়া ব্রিজের দুইপাশে ঘাস ও কচুরিপানা জমাট বেঁধে রয়েছে। এতে নদীতে পানি প্রবাহ বিঘ্নিত হচ্ছে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এক সময় লৌহজং নদী দিয়ে বড় বড় নৌকা ও লঞ্চ চলাচল করত। কালের বিবর্তনে সংস্কারের অভাব ও দখলের কারণে নদী তার যৌবন হারিয়েছে। করটিয়া বাজার ও হাট এলাকায় নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। নদী দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে পাঁকা দালান।

করটিয়া বাজারের লন্ড্রি দোকানের মালিক সুধির দাস বলেন, ‘আগে নদীতে যে স্রোত প্রবাহিত হতো, তাতে নৌকা চলাচল করা কঠিন হতো। কিন্তু বর্তমানে সারা বছর নদী পানিশূন্য থাকে। বর্ষা শুরু হলে কিছুটা পানি প্রবাহিত হয়।’

জানা গেছে, টাঙ্গাইলে জমিদারদের কারণে করটিয়া বাজারের সুখ্যাতি রয়েছে। দেশের অন্যতম কাপড়ের হাট এটি। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির আগে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লৌহজং নদী ব্যবহার করে নৌকাযোগে মালামাল নিয়ে আসত এই করটিয়া হাটে।

করটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খালেকুজ্জামান চৌধুরী মজনু বলেন, ‘ছোট সময়ে দেখতাম লৌহজং নদী দিয়ে করটিয়া হাটে বরিশাল থেকে বড় বড় নৌকাযোগে নারিকেল আসত। এ নদীতে ব্যাপক স্রোত ছিল। কিন্তু সেই নদী এখন মরা খাল।’

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘করটিয়ার লৌহজং নদীর দখল ও ভরাটের বিষয়ে অতি দ্রুতই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

এই ধরনের আরও খবর
- Advertisment - 📰 নিজেই তৈরি করুন প্রফেশনাল নিউজ ফটো কার্ড! ছবি ও শিরোনাম যোগ করুন, তৈরি করুন এবং HD ডাউনলোড করুন। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। এখনই তৈরি করুন → Powered by News Tangail

সর্বশেষ খবর