সিরাজগঞ্জের সড়ক দূর্ঘটনায় ব্যবসায়ীর মৃত্যুতে টাঙ্গাইলে শোক

নিজস্ব প্রতিনিধি : পিতা মো. ইদ্দ্রি মিয়া ও ছেলে মো. মজনু মিয়া টাঙ্গাইল শহরের পার্কবাজারের গুড় ও সবজির ব্যবসা করতেন তারা । দেশের উত্তরবঙ্গ থেকে মালামাল কিনে এনে টাঙ্গাইলে বিক্রি করতো। এতে পরিশ্রম একটু বেশি হলেও অন্যদের তুলনায় লাভও বেশি হতো। লাভ বেশি হওয়ায় দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত তারা এভাবেই তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছিলেন । ব্যবসা করেই মো. ইদ্দ্রিস মিয়া তিন ছেলে ও এক মেয়েকে মানুষ করেছে। সুখ ও শান্তিতেই চলছিলো তাদের পরিবার। হঠাৎ করে তাদের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
গত শনিবার (৫ জানুয়ারি) ভোরে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে পাথর বোঝাই ট্রাককে পেছন থেকে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কা দেয়ার ঘটনায় মো. ইদ্দ্রিস মিয়া ও ছেলে মো. মজনু মিয়া ও পিকআপ চাকল মো. রাজু মিয়া নিহত হয়েছেন।
মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দূর-দুরান্ত থেকে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব, শুভাকাঙ্খী ও এলাকাবাসী নিহত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও পরিবারবর্গকে সমবেদনা জানাতে সকাল থেকেই মো. ইদ্রিস মিয়ার বাড়িতে ভীড় জমাতে শুরু করে। এক পর্যায়ে ইদ্দ্রিস মিয়ার বাড়ি শোকাহত মানুষের ঢলে পরিণত হয়। দুপুরে নিহতদের লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলে আত্মীয়-স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। স্বজনদের হৃদয় বিদারক কান্না ও আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠে। বাদ আসর নিহতদের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পরে তাদেরকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। এখনও নিহতের বাড়িতে চলছে কান্নার মাতম।
মো. মজনু মিয়া মেয়ে সামিয়া আক্তার বলেন, এখন থেকে বাবা ও দাদা কেউ আর আমাকে আদর করবে না। এভাবে আমাদের পরিবারে অন্ধকার নেমে আসবে তা কখনও কল্পনাও করি নাই। তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
মো. মজনু মিয়ার স্ত্রী আফিয়া বেগম বলেন, আমাকে মধ্য সমুদ্রে ফেলে তারা চলে গেলো। কিভাবে সন্তান নিয়ে সংসার করবো। এ বিষয়টা মেনে নেওয়ার মতো না।
এনায়েতপুর এলাকার মো. সিয়ামুর রহমান লেবু বলেন, খবর পাওয়া পর থেকেই তাদের বাড়িতে শত শত মানুষ আসতে থাকে। পিতা ও ছেলেকে দেখে কেউ কান্না না করে বাড়ি থেকে বেড় হতে পারেনি।
একই এলাকার মো. আক্কাস মিয়া বলেন, একটি দূর্ঘটনায় তাদের পরিবারসহ আমাদের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবরটি শোনার পরেও আমি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলাম। তাদের পরিবারের প্রতি আমিও সমবেদনা জানাই।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মো. ইদ্দ্রিস মিয়া ও তার ছেলে মো. মজনু মিয়া রাজশাহী হতে গুড় ও বড়ই নিয়ে পিকআপ যোগে টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। ঘণ কুয়াশা থাকার কারণে ঘটনাস্থলে আসলে পাথর ভর্তি দাড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে পিকআপ ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপ ভ্যানটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
খবর পেয়ে বঙ্গবন্ধু পশ্চিম থানার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পিকআপের তিনজনকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।
তারা হচ্ছেন টাঙ্গাইল পৌরসভার এনায়েতপুর পূর্ব-দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত তাহের মিয়ার ছেলে ইদ্রিস মিয়া (৬৫), তার ছেলে মো. মজনু মিয়া (৩২) ও পিকআপ চালক একই উপজেলার সন্তোষের মো. টিটু মিয়ার ছেলে মো. রাজু মিয়া (২৪)।
পরে দুপুরে টাঙ্গাইলের এনায়েতপুর পূর্ব-দক্ষিণপাড়া তাদের বাড়িতে লাশ আনা হয়। বাদ আসর এনায়েতপুর হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও কবরস্থান মাঠে নামাযে জানাযা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
এই ধরনের আরও খবর
- Advertisment - 📰 নিজেই তৈরি করুন প্রফেশনাল নিউজ ফটো কার্ড! ছবি ও শিরোনাম যোগ করুন, তৈরি করুন এবং HD ডাউনলোড করুন। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। এখনই তৈরি করুন → Powered by News Tangail

সর্বশেষ খবর