এম সাইফুল ইসলাম শাফলু: টাঙ্গাইলের সখীপুরে ৫ মাস বয়সি এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সখীপুর পৌরসভার ৩নম্বর ওয়ার্ডের সৌখিন মোড় এলাকার আবদুল জলিলের ভাড়াটিয়া বাসার টয়লেট থেকে ওই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ওই নবজাতকের মা স্বামী পরিত্যক্ষা আর্জিনা বেগমকে (৩০) গ্রে’ফতার করা হয়েছে। নবজাতকের মরদেহ ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরিক্ষার জন্য টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মামলা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ৭ বছর আগে সখীপুর পৌরসভার ৩নম্বর ওয়ার্ডের সৌখিন মোড় এলাকার আজাহার উদ্দিনের মেয়ে আর্জিনা আক্তারের উপজেলার দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের শোলাপ্রতিমা গ্রামের আলমের সঙ্গে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ৫ বছর বয়সি আসিফ নামের এক পুত্র সন্তানও রয়েছে। গত তিন বছর আগে দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের আলী হোসেনের ছেলে আজগর আলীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন আর্জিনা। এ ঘটনা জানাজানি হয়ে পড়লে গত দুই বছর আগে স্বামীর সাথে আর্জিনা আক্তারের ডির্ভোজ হয়। এরপর থেকে সন্তান আসিফকে নিয়ে পৌরসভার ৩নম্বর ওয়ার্ডের সৌখিন মোড় এলাকায় আবদুল জলিলের বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে। ডিভোর্সের পর আর্জিনা ও আজগর আলীর সম্পর্ক আরো গভীর হয়। আর্জিনার বাসায় নিয়মিত যাতায়াতও ছিল আজগরের। এ ব্যাপারে বেশ কয়েক দফা শালিশী বৈঠকও করে এলাবাসী ।
এ ব্যাপারে আর্জিনার ভাই রফিকুল ইসলাম জানান- সম্পর্কের কারনে আজগর আলী মর্জিনার বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করত। তাদের অনৈতিক সম্পর্কের কারণে আর্জিণা অন্ত:স্বত্তা হয়ে পড়ে। গত ৭ সেপ্টেম্বর বিয়ের দাবিতে আর্জিনা আজগর আলীর বাড়িতে অবস্থান নিলে আজগর আলী ও তার পরিবারের লোকজন আর্জিনার ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালায়। এক পর্যায়ে আর্জিনা অসুস্থ্য হয়ে পড়লে ৮ সেপ্টেম্বর তাকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করি। কিছুটা সুস্থ্য হলে সে বাসায় ফিরে আসে। শনিবার সন্ধ্যায় আর্জিনা টয়লেটে গেলে তার গর্ভের সন্তান পড়ে যায়। আজগর আলীর নির্যাতনের কারণেই এ গর্ভপাত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল ইসলাম বলেন- নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরিক্ষার জন্য টাঙ্গাইল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নবজাতকের মাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
