নিজস্ব প্রতিনিধি- রমনার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশে মুক্তি সংগ্রামের আহ্বান জানিয়ে ঐতিহাসিক যে ভাষণ দিয়েছিলেন সেটি সারা বিশ্বের মানুষ আজও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলে মন্তব্য করেছেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম।
সোমবার (১৬ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় স্থানীয় শহীদ স্মৃতি পৌরউদ্যানে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তব্যে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ইতিহাস তুলে এ কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে ১৮ মিনিট বক্তব্য রাখেন। এতে বঙ্গবন্ধর বক্তব্যে উজ্জীবিত হয়ে উঠে সাধারণ জনতা। ওই সময় বাংলাদেশের লাখো লাখো মানুষ দাঁড়িয়ে উঠেছিল। এক হাজার একশ একটি ওয়ার্ড ছিল তার বক্তব্যে, তেইশ বছরের ইতিহাস বলেছেন ১৮মিনিটে। এই বক্তব্য অক্ষরে অক্ষরে তাক করেছেন বিশে^র শত শত নেতৃবৃন্দ। ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অ্যাডোয়াড ফ্রিজ এই বক্তব্য শুনেছেন। তিনি ইংরেজীতে যে কথা বলেছেন তার বাংলা হলো পৃথিবীতে যত দিন মানুষ পরাধীন থাকবে ততোদিন বঙ্গবন্ধুর এই বক্তব্যে থেকে অনুপ্রেরণা করে স্বাধীনতার জন্য উদ্বিগ্ন হবে। যতোদিন তারা সংগ্রাম করবে বঙ্গবন্ধুর বক্তব্যেকে সাথে নিয়ে বুকে ধারণ করে রাখবে। সারা বিশ্বের মানুষ এই বঙ্গবন্ধুর রেসকোর্স ময়দানের ভাষণ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে।
শহীদুল ইসলাম বলেন, ১০ জানুয়ারি ১৯৭২। দুপুরে বিমান থেকে ঢাকায় নামলেন স্বাধীন বাংলাদেশের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জনস্রোত আর মানুষের স্লোগানে মুখরিত চারপাশ। সোচ্চার ধ্বনি উঠছে, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় মুক্তিযুদ্ধ। বিমানবন্দর থেকে পল্টন ময়দান এক বিপুল জনসমুদ্র। চারদিকে মুক্তি আর মহানেতাকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ। আজও চোখে লেগে আছে মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনটি।
স্বাধীনতা দিবসে অলোচনা সভায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল-৫ সদর আসনের সংসদ সদস্য মো. ছানোয়র হোসেন, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফউজ্জামান স্মৃতি, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মোশারফ হোসেন খান, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান আনছারী প্রমুখ।
আলোচনা সভায় সঞ্চালনায় ছিলেন টাঙ্গাইলের তথ্য কর্মকর্তা কাজী গোলাম আহাদ। অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু, কিশোর ও শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
